Sunday, November 06, 2016

ফিস্টুলা বা ভগন্দর

ফিস্টুলাকে বাংলায় ভগন্দর বলা হলেও এর সহজ বাংলা হল নালি। মলদ্বারের ভেতরের সঙ্গে বাইরের নালি তৈরি হওয়াকে বলা হয় ফিস্টুলা। এটি অতি প্রাচীন রোগ।

২০০০ বছর আগের বই-পুস্তকেও ফিস্টুলা সম্পর্কে আলোচনা পাওয়া গেছে। সাধারণত মলদ্বারের পাশের গ্রন্থি (Anal gland) বন্ধ ও সংক্রমিত হয়ে বিষফোঁড়া হয় এবং বিষফোঁড়া ফেটে গিয়ে নালি তৈরি করে। মলদ্বারে বিষফোঁড়া হওয়া রোগীদের শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর ফিস্টুলা হয়। অনেক সময় ফিস্টুলা এবং বিষফোঁড়া একই সঙ্গে প্রকাশ পায়।

এছাড়া মলদ্বারের যক্ষা, বৃহদন্ত্রের প্রদাহ এবং মলদ্বারের ক্যান্সার থেকে ফিস্টুলা হয়। শিশুদের সাধারণত ফিস্টুলা হয় না। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক লাখ লোকের মধ্যে আট থেকে নয় জন ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত।

মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা (প্রায় দ্বিগুন) বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

রোগীর ব্যথা, মলদ্বারের পাশে ফোলা এবং নিজে থেকে ফেটে গিয়ে পুঁজ-পানি ঝরা কিংবা বিষফোঁড়ার জন্যে আগের অপারেশনের ইতিহাস নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। পুঁজ-পানি পড়লে ব্যথা কমে যায় এবং রোগী আরাম বোধ করেন এবং কিছুদিনের জন্যে রোগী ভালো হয়ে যান। রোগটি দুতিন মাস সুপ্ত থেকে আবার দেখা যায়।

সুপ্তাবস্থায় রোগী ভাবেন যে তিনি ভালো হয়ে গিয়েছে, ফলে চিকিৎসকের কাছে আসেন না। অনেক রোগী দেখা যায় ব্যথার সময় এলাকার ফার্মেসী থেকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং ব্যথার ওষুধ কিনে খান। ব্যথা ভালো হলে ভুলে যান। এভাবে চক্রাকারে বছরের পর বছর চলতে থাকে। অনেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেন। জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে আসেন।

ফিস্টুলা যেহেতু একটি নালি তাই এর দুইটি মুখ থাকে। একটি মলদ্বারের ভেতরে একটি বাহিরে। নালিটির গতিপথের উপর ভিত্তি করে আমেরিকান গ্যাস্ট্রএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ফিস্টুলাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে।

সরল ফিস্টুলা: যে সকল ফিস্টুলার মুখ মলদ্বারের অল্প ভেতরে তাকে সহজ ফিস্টুলা বলে। এক্ষেত্রে মলদ্বারের মাংসপেশি অল্প সম্পৃক্ত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারেই হয় নয়া।

জটিল ফিস্টুলা: যে সকল ফিস্টুলার মুখ মলদ্বারের গভীরে, কিংবা ফিস্টুলার শাখা-প্রশাখা রয়েছে অথবা ফিস্টুলার সঙ্গে অন্যান্য অঙ্গের (যেমন - মুত্রথলি, যোনিপথ) সংযোগ রয়েছে তাকে জটিল ফিস্টুলা বলে।

জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে মলদ্বারের মাংসপেশি বেশি পরিমাণে সম্পৃক্ত হয়। অপারেশনের পর পুনরায় হওয়া ফিস্টুলা, মলদ্বারের যক্ষা, বৃহদন্ত্রের প্রদাহ এবং মলদ্বারের ক্যান্সার থেকে হওয়া ফিস্টুলা সাধারনত জটিল ফিস্টুলা হয়ে থাকে। অনেক সময় এ ধরনের ফিস্টুলার ক্ষেত্রে বাইরে একাধিক মুখ থাকতে পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর সমস্যা শুনে, মলদ্বার দেখে ও মলদ্বারে আঙুল দ্বারা পরীক্ষা করে ফিস্টুলা রোগটি নির্ণয় করা যায়। মলদ্বারের যক্ষা, বৃহদন্ত্রের প্রদাহ এবং মলদ্বারের ক্যান্সার থেকে ফিস্টুলা এসব সন্দেহ করলে চিকিৎসকরা কোলনোস্কপি করে থাকেন। এছাড়া জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে এমআরআই, মলদ্বারের ভেতরের আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদি পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়।

ফিস্টুলা এমন একটি রোগ যার অপারেশন ভিন্ন অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। প্রকৃতিগত ভাবেই মানুষ অপারেশন ভয় পায়। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কিছু ‘অসাধু’ রোগীদের প্রতারিত করে থাকে। তাদের অপচিকিৎসা রোগটির জটিলতা বৃদ্ধি করে।

হিপক্রেটিস (আনুমানিক ৪৩০ খৃস্টপূর্ব) সর্বপ্রথম ফিস্টুলার সার্জিক্যাল চিকিৎসা করেন বলে বইপত্রে উল্ল্যেখ পাওয়া যায়। ১৯ শতকের শেষ থেকে ২০ শতকের শুরুর দিকে গুডসেল, মাইলস, মিলিগ্যান এবং মরগ্যান, থম্পসন প্রমুখ সার্জনগন ফিস্টুলা চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭৬ সালে পার্কস ফিস্টুলার যে শ্রেণিবিভাগ করেন সেটি এখনও সর্বজনবিদিত। পরে ফিস্টুলা চিকিৎসায় বহু পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে কোনটি শ্রেষ্ঠ বা যথাযথ সে বিষয়ে চিকিৎসকরা এখনও ঐক্যমতে আসতে পারেননি। 

বর্তমানে ফিস্টুলা চিকিৎসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত অপারেশন পদ্ধতিগুলো হচ্ছে-

* ফিস্টুলোটোমি। * ফিস্টুলেকটোমি। * সিটন পদ্ধতি। * ফিস্টুলা প্লাগ। * ফিস্টুলা গ্লু। * ফ্ল্যাপ ব্যবহার। * রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার। * লেজার ব্যবহার। * স্টেম সেল ব্যবহার। * মলদ্বারের মাংসপেশির মাঝখানের নালি বন্ধ করে দেওয়া। * এন্ডোস্কোপিক ফিস্টুলা সার্জারি।

এগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি বহূল ব্যবহৃত। বাকিগুলো বিশেষ ক্ষেত্রে কিংবা অতি জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পদ্ধতি যাই হোক না কেনো ফিস্টুলার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয় যেমন- সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, ফিস্টুলা নালিটি বন্ধ করা এবং মল ধরে রাখার ক্ষমতা বজায় রাখা।

ফিস্টুলা চিকিৎসার অন্যতম দিক হল অপারেশনের পর ফিস্টুলা পুনরাবৃত্তি না হওয়া এবং মল ধরে রাখার ক্ষমতা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

সাধারণত কোমরের নিচ থেকে অবশ করে অপারেশন করা হয়। একদু দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। ফিস্টুলা অপারেশনের পর ঘা শুকাতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে সিটন পদ্ধতিতে দুতিন ধাপে অপারেশন করা হয়। প্রতিটি ধাপের মাঝে সাত থেকে ১০ দিন বিরতি দেওয়া হয়। এই সময় নিয়মিত ড্রেসিং করা প্রয়োজন। ড্রেসিং অপারেশনের পর পুনরায় ফিস্টুলা হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

একথা সত্য যে ফিস্টুলা অপারেশনের পর আবার হতে পারে। বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের মতে অপারেশনের পর ফিস্টুলা পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা তিন থেকে সাত ভাগ। জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে এটি শতকরা ৪০ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এক কথায় জবাব দেওয়া সম্ভব নয় ফিস্টুলা অপারেশনের পর পুনরায় হবে কিনা। ফিস্টুলার ধরন, সার্জনের অভিজ্ঞতা এবং অপারেশনের পরের যত্নের উপর ফিস্টুলা অপারেশনের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

পরিশেষে বলা যায় যে, ফিস্টুলা রোগটির চিকিৎসা সম্ভব এবং সঠিক চিকিৎসায় ফিস্টুলা ভালো হয়। রোগ নিয়ে লজ্জা না পেয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন, সুস্থ থাকুন।

Saturday, October 22, 2016

তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদ

ইসলাম একটি প্রাকৃতিক ধর্ম। অতএব ইসলামের বিবেচনায় এ বিষয়টি রয়েছে যে স্বামী স্ত্রীর মাঝে কখনো মীমাংসা-অযোগ্য দুরত্বের সৃষ্টি হতে পারে। এরূপ হলে ইসলাম তাদেরকে তালাকের মাধ্যমে বিয়ের পরিসমাপ্তি ঘটানোর অনুমতি দেয়। যদিও অন্যান্য সমাজ ও ধর্মে এই বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমোদন রয়েছে। তবে ইসলামে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের পন্থা খুব স্বতন্ত্র। তা খুব মানবিক ও স্বাভাবিক পন্থায় সমস্যার সমাধান দেয়। প্রথমত, এটি স্বামী ও স্ত্রীকে তাদের বিয়ে টিকিয়ে রাখার জন্য বহু সুযোগ সুবিধা প্রদান করে। দ্বিতীয়ত, যদি তালাক অপ্রত্যাখ্যানযোগ্য হয় তবে তা স্বামী ও স্ত্রী উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

কোরান মাজিদের নির্দেশনা
আর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রাখবেন। (আন-নিসা, ৪:১৯)

প্রত্যেক পুরুষেরই কিছু মানবিক দুর্বলতা রয়েছে। নারীর ক্ষেত্রেও তা সমান সত্য। এই আয়াত আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, যদি একজন স্বামী তার স্ত্রীর মধ্যে কিছু দুর্বলতা অপছন্দ করে তবে তার নিজের দুর্বলতাগুলির দিকে তাকানো উচিত। এতদসংক্রান্ত কিছু আয়াত ও হাদিস ইতোপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। এসব কিছুই আমাদেরকে আমাদের স্ত্রীদের সাথে ভালবাসা ও হৃদ্যতার সাথে বাস করার এবং তাদের মানবিক দুর্বলতাসমূহকে গ্রহণ করে নেয়ার শিক্ষা দেয়। যদি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দুরত্ব খুব বেশি হয়, কোরান মাজিদ আমাদেরকে চুড়ান্ত তালাক প্রদানের পূর্বে সালিশ নিয়োগের মাধ্যমে তা সুরাহা করার উদ্যোগ নিতে আদেশ প্রদান করেছে।

আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশংকা কর তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন বিচারক এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক পাঠাও। যদি তারা মীমাংসা চায় তাহলে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে মিল করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সম্যক অবগত।

পারিবারিক অসঙ্গতি নিরসনের জন্য ইসলাম পুরুষের মত নারীদেরকেও সমান অধিকার প্রদান করে। তাদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে সালিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে উভয়ের সমান অধিকার রয়েছে। ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, এই সালিশ বা মধ্যস্ততাকারী নিয়োগ নারীদের ঋতুচক্র শেষ হওয়ার পর করতে হবে। যদি স্ত্রীর ঋতুচক্র চলাকালীন সময়ে দুরত্ব সৃষ্টি হয় তবে উভয়কে তার চক্র শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তা উভয়ের মধ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার একটি অবকাশ প্রদান করে এবং প্রায় ক্ষেত্রেই তাদের একজন নিজের ভুল বুঝতে পারে। এতে করে নিজে নিজেই উভয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা সৃষ্টি হয়।

যদি উভয়ের মধ্যে দুরত্ব বাড়তে থাকে কিংবা স্বামী নরম না হয়, তবে কোরান মাজিদ তালাকের একটি দীর্ঘমেয়াদী কার্যপ্রণালী অনুসরণের নির্দেশনা দেয়। তা এটি নিশ্চিত করার জন্যে যে, যাতে স্বামী অসুবিধায় পড়ে কিংবা রাগান্বিত অবস্থায় তালাক প্রদানের পথ বেছে না নেয়।

হে নবি! (বল), তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দেবে তখন তাদের ইদ্দত অনুসারে তাদের তালাক দাও এবং ইদ্দত হিসাব করে রাখবে এবং তোমাদের রব আল্লাহকে ভয় করবে। (আত-তালাক, ৬৫:১)

এই আয়াত থেকে একথাটি পরিষ্কার হয় যে, তালাক কেবল নির্দেশিত সময়ের পরেই প্রদান করা যেতে পারে। অন্য কথায়, স্ত্রীকে তালাক প্রদানের পূর্বে স্বামীকে অপেক্ষা ও শান্ত হওয়ার জন্যে একটি সংক্ষিপ্ত সময় পার করতে হবে। কোরান মাজিদ অপেক্ষার এই সময়কে খুব পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করে- আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন কুরূ (ঋতুচক্র কাল) পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবে। (আল বাকারা, ২:২২৮)

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুবর্তী হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা যদি সংশয়ে থাক এবং যারা এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদের ইদ্দতকালও হবে তিন মাস। আর গর্ভধারিনীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন। (আত-তালাক, ৬৫:৪)

সকল ইমাম এ বিষয়ে একমত যে, স্ত্রীর ঋতুচক্র চলাকালীন সময়ে তালাকের ঘোষণা দেয়া যাবে না। স্ত্রী পবিত্র হওয়া পর্যন্ত স্বামীকে অপেক্ষা করতে হবে। স্ত্রী পবিত্র হওয়ার পর স্বা, যখন সে তাকে তালাক দিতে পারবে। সে তখন তালাকের ঘোষণা দিতে পারে। এখন তাকে অবশ্যই স্ত্রীর সাথে তিনিটি মাসিক ঋতুচক্র শেষ হওয়া পর্যন্ত যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে। আর এই সময়কালে উভয়েই একই ঘরে বসবাস করা আবশ্যক। ইসলাম এভাবে তালাকের প্রক্রিয়াকে একটি দীর্ঘমেয়াদী, শ্লথ ও মানবিক রূপদান করেছে। এমনটি সম্ভব যে, যখন স্ত্রী একটি কিংবা দুটি ঋতুচক্র পার করবে স্বামী তার প্রতি নরম হবে এবং তার সাথে যৌন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে। এটি উভয়ের মাঝে একটি স্বয়ংক্রিয় সমঝোতা নিয়ে আসবে এবং তাদের বিয়েকে রক্ষা করবে। অধিকন্তু, যদি স্বামী এই ঋতুচক্রকালীন সময়ের মধ্যে যে কোন সময় স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চায় তবে সে ফিরিয়ে নিতে পারবে। যদি একবার তিন চক্র শেষ হয়ে যায় তবে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পূর্ণ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে এবং একজন আরেক জনের সাথে বাস করতে পারবে না। এর পরে যদি সে স্ত্রীকে পুনরায় ফিরিয়ে নিতে চায় তবে তাকে নতুনভাবে আকদে নিকাহ করতে হবে। কোরান মাজিদ দুই বারে তালাক দেয়ার সুযোগ প্রদান করে, তৃতীয়টি হবে চুড়ান্ত তালাক।

তালাক দুবার। অতঃপর বিধি মোতাবেক রেখে দেবে অথবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেবে। (আল বাকারা, ২:২২৯)

যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেয় তবে সে তাকে পুনরায় বিয়ে করতে পারে না। স্বামী তার এই বিগতা স্ত্রীকে বিয়ে করার একমাত্র উপায় হল যে, এই নারী অন্য কোন পুরুষের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হবে এবং এই দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তালাক প্রদান করবে। তখনই কেবল পূর্বের স্বামী তাকে বিয়ে করতে পারবে। এধরনের পরিস্থিতি নিতান্তই দুর্লভ। এভাবে ইসলাম তালাক প্রদানকে জীবনের একটি গুরুতর বিষয়ে পরিণত করেছে। তা একজন স্বামীকে তার স্ত্রীর সাথে সমঝোতা করার সকল সম্ভাব্য সুবিধা প্রদান করে। তা তার মেজাজ শীতল করার এবং একটি যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর্যাপ্ত সময়ও প্রদান করে। একজন স্বামীকে তালাকের গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্ণরূপে সচেতন থাকতে হবে। যদি কোন ব্যক্তি তালাক প্রদানের জন্যে চরমভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তবে তাকে সঠিক ও বৈধ তালাক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য একজন বিজ্ঞ মুফতির সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে।

নারীদের অধিকার আরও বেশি সুনিশ্চিত করার জন্যে কোরান মাজিদ বলে যে, তালাকের শব্দ কমপক্ষে দুজন স্বাক্ষীর সামনে উচ্চারণ করতে হবে।

অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দতের শেষ সীমায় পৌঁছবে, তখন তোমরা তাদের ন্যায়ানুগ পন্থায় রেখে দেবে অথবা ন্যায়ানুগ পন্থায় তাদের পরিত্যাগ করবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ন দুজনকে স্বাক্ষী বানাবে। (তালাক, ৬৫:২)

কোরান মাজিদ আমাদেরকে আরও শিক্ষা দেয় যে, তিক্ততা, ক্রোধ ও বিদ্বেষের মধ্যে তালাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিৎ নয়। যা বর্তমানে পশ্চিমা সমাজে খুবই সাধারণ ব্যাপার।

উপরোল্লেখিত আয়াতটি খুব পরিষ্কারভাবে বর্ণনা দেয় যে, স্বামীদের উচিৎ তাদের স্ত্রীদেরকে কৃপা ও অনুগ্রহ সহকারে যেতে দেওয়া। অন্য আয়াতে এই নির্দেশনাটি পূণর্ব্যক্ত হয়েছে:

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিবে অতঃপর তারা তাদের ইদ্দতে পৌঁছবে তখন তোমরা তাদেরকে বাধা দিয়ো না যে, তারা তাদের স্বামীদেরকে বিয়ে করবে যদি তারা পরস্পরে তাদের মধ্যে বিধি মোতাবেক সম্মত হয়। এ উপদেশ তাকে দেয়া হচ্ছে, যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে। এটি তোমাদের জন্য অধিক শুদ্ধ ও অধিক পবিত্র। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। ( )

কোরান মাজিদ আরও একধাপ অগ্রসর হয়ে বলে যে, স্বামীরা সেসব সম্পদ স্ত্রীদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিতে পারবে না। যা তারা তাদের স্ত্রীদেরকে প্রদান করেছিল। এই কাজকে হারাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে:

আর তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ, তা থেকে কিছু নিয়ে নেবে। তবে উভয়ে যদি আশঙ্কা করে যে, আল্লাহর সীমারেখায় তারা অবস্থান করতে পারবে না। (আল বাকারা, ২:২৩৫)

হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা জোর করে নারীদের ওয়ারিস হবে। আর তোমরা তাদেরকে আবদ্ধ করে রেখো না, তাদেরকে যা দিয়েছ তা থেকে কিছু নিয়ে নেয়ার জন্য, তবে যদি তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। আর তোমরা তাদের সাথে সৎভাবে বসবাস কর। আর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যান রাখবেন। (নিসা, ৪:১৯)

মূল : ড. মাজহার ইউ কাজি
বাংলা অনুবাদ : মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুজহিরি
সম্পাদনা : ড. মাওলানা শামসুল হক সিদ্দিক

Friday, September 30, 2016

দুঃখ বিলাস

মন খারাপের বারন্দায় বসে
এই হটাৎ এমন কেন কিসে
কেন পাই না খুঁজে তার দেখা
ছিল কি দেখা হওয়ার কথা

তবে কেন মনে দুঃখ বিলাস
আসে কেন বড় বড় দীর্ঘশ্বাস
পাইনা ভেবে ছন্নছাড়া ছল
মিছেই হচ্ছি ভেবে নাকাল

অতিত অতিত খেলি নিজে
মনের সাথে মনে ছল চাতুরী
পাওনা দেনা এতোই বুঝি
বুঝিনা নিজের গড়া আতুরি

দিন গেল যে দিনের পরে
মিছে মিছি অলিক ধরে
সামনে চলি সামলে জেগে
ভবের বেলা শেষের আগে

Saturday, August 13, 2016

বিরহ

থাকো না আর কিছুক্ষন
ভালবেসে আবেশে মন
যেন হারায় হারায় প্রতিখন
শুধুই হারতে চায় এই মন

দ্রুত লয়ে কেন যে বয়ে যায়
অধরা জড়ানো মোড়ানো ক্ষন
তুমি কি শুনছো রিনিকিঝিনি
সেই ঝিলমিল করা অনুরণন

চোখ বোজা আর খুলে থাকা
আর কি যায় কিছু দেখা
বিরহে পোড়াও তুমি শুধু
নিজে কি পোড়ো না বধু

Sunday, August 07, 2016

Sharaab or Khuda

These three poets are legendary in  Urdu literature as also their following couplets.

The poets Ghalib(1797-1869), Iqbal(1877-1938) and Faraz(1931-2008) present their views on the universality of God in the couplets.

It was not a feud. At best you can call it a poetic difference of opinion by intellectual and witty minds, spread across centuries.

Ghalib started it: In the 19th century , it was a bold statement. But then Ghalib was never known for meekness or following the crowd.

“Zahid, sharaab peene de masjid mein baith kar
Ya wo jagah bataa, jahaan Khuda nahin”

[Let me drink in a mosque; or tell me the place where there is no God.']

Allama Iqbal was not convinced and decided to reply about half a century later. So in the late 19th-early 20th  century, his poetic reply to Ghalib

“Masjid Khuda ka ghar hai, peene ki jagah nahin
Kaafir ke dil mein jaa, wahaan khuda nahin”

Mosque is the abode of God, not a place to drink. Go to the heart of a non
-believer because there God is not.

Faraz had the last word. (Later half of 19th century) .

“Kaafir ke dil se aaya hun, main ye dekh kar Faraz,
Khuda maujood hai wahaan, par usey pata nahin”

[I have returned from the heart of the disbeliever and i have observed : God is present in his heart too, but he just doesn’t know it. (he is ignorant/sleeping)

Tuesday, August 02, 2016

গল্প-৪

দুই বন্ধু প্রতিদিন বিকালে নৌকা ভাড়া নিয়ে মাছ শিকারে বের হয় …
আজ তাদের ভাগ্য বড়ই প্রশন্ন, মাত্র এক ঘন্টা এর মধ্যে ৩০-৩৫ টা মাছ ধরতে পারল এবং আশেপাশে ভাল করে তাকিয়ে দেখে বুঝতে পারল এই জায়গাটা এখনও অপর শিকারীদের কাছে অপরিচিত।
প্রথম বন্ধু: এটা মাছ ধরার জন্যে খুবই ভাল তুই এই স্হানটা ভালভাবে চিহ্ন দিয়ে রাখ।
দ্বিতীয় বন্ধু: ঠিক আছে।
.
পরদিন ঘাটে এসে …
প্রথম বন্ধু : গতকালকের জায়গাটা চমৎকার ছিল, চল ওখানে সরাসরি যাই। তুই ভাল ভাবে চিহ্ন দিয়ে রেখেছিলিতো?
দ্বিতীয় বন্ধু : অবশ্যই, আমি নৌকার নীচে এমনভাবে “X” চিহ্ন দিয়ে রেখেছি যাতে পানিতে কোনভাবে ধুয়েযেতে না পারে।
প্রথম বন্ধু : (বন্ধুর বোকামী দেখে হতবাক) ওরে গাধা, এটা কি করেছিস? আজ আমরা যে ঐ নৌকা ভাড়া পাব তোকে কে নিশ্চিত করেছে।

মোরাল অব দ্যা ষ্টোরী …
সঠিক সিদ্ধান্ত ও সঠিকভাবে কাজের সমন্নয়ের অভাব আপনার সর্বোচ্চ পরিশ্রমকে অনেক সময় হাস্যকর করে তুলতে পারে।

Monday, August 01, 2016

গল্প-৩

এক সুন্দরী বিক্রয়কর্মী, অফিস সহকারী ও তাদের পরিচালক অফিস বিরতীতে একত্রে মধ্যাহ্নভোজে বেড়িয়েছে। পথে হঠাৎ এক প্রাচীন তৈল প্রদীপ পড়ে থাকতে দেখতে পায়, স্বভাবগতভাবে বিক্রয়কর্মী অতি উৎসাহের সাথে এগিয়ে কিছু না ভেবেই আলতো করে পাশে লেগে থাকা ধুলা হাত দিয়ে মুছতে থাকে।
বিশাল এক দৈত্য বেড়িয়ে এল …
দৈত্য: আমি তিনটি ইচ্ছা পূরনে সক্ষম, তবে তোমরা তিনজন হওয়াতে প্রত্যেকে একটা করে ইচ্ছা প্রকাশ কর।
বিক্রয়কর্মী: আমি প্রথম … প্লিজ, … আমি বাহামা যেতে চাই, জগৎ সংসারের সকল চিন্তা ভুলে সমুদ্রস্হানের স্বাদ পেতে চাই।
…. ছুহ … … নিমেশে অদৃশ্য হয়ে গেল
অফিস সহকারী: এবার আমি, আমি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রতটে যেতে চাই সাথে থাকবে পছন্দের ম্যাসেজ, অফুরান পিনা কলোডাস ও আমার প্রিয়তমা …
… শেষ হবার সাথে সাথে … ছুহ … অদৃশ্য …
দৈত্য: এবার তোমার পালা (পরিচালক এর দিকে তাকিয়ে)
পরিচালক: (একটু বিরক্তির সাথে ভ্রু কুচকে) অফিসের মধ্যাহ্নভোজের বিরতী শেষ হবার সাথে সাথে আমার দুইজনকে একসাথে অফিসে দেখতে চাই।

মোরাল অব দ্যা ষ্টোরী …
প্রথম মতামতটা বসের জন্যে সংরক্ষিত রাখুন।

গল্প-২

চমৎকার রোদ্দজ্বল সকালে নিজ গর্তের একটু সামনে এক ছোট খরগোশ চোখের সামনে এক ভারী চশমা লাগিয়ে টস-টকাশ-টস … টস-টকাশ-টস করে পুরানো এক টাইপরাইটারে শব্দ করে চলেছে।
শব্দে আগ্রহী হয়ে সকালে হাঁটতে বের হওয়া নিঃসংগ শিয়াল এগিয়ে এল …
শিয়াল: কিরে ব্যটা, সাত-সকালে এমন পথের মাঝে কি করছিস?
খরগোশ: (গম্ভীর গলায়) আহা বিরক্ত করনা, আমি একটা থিসিস এর উপর কাজ করছি।
শিয়াল: (একটু আগ্রহী গলায়) হুম … তা কিসের উপর থিসিস?
খরগোশ: আমি লিখছি কিভাবে খরগোশ শিয়াল খায়।
শিয়াল: (হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল) ওরে, এতো মহা আহম্মকও জানে খরগোশের শিয়াল ধরা কেন শিয়ালের দিকে তাকাতেও সাহস লাগে।
খরগোশ: তবে চল ঝোপের পিছনের আমার বাসায়, তোমায় প্রমান দেখাই।
মিনিট ১৫ পর …
খরগোশ হাতে করে শিয়ালের একটা হাড় চাটতে চাটতে ফিরলো এবং পুনরায় অসমাপ্ত লেখা এগিয়ে নিয়ে চলল।
খানিক পর একাকি এক নেকড়ে দেখতে পেল খরগোশের কঠোর পরিশ্রম, আগ্রহী হয়ে এগিয়ে এল …
নেকড়ে: কি এতো মনযোগ দিয়ে লিখছ?
খরগোশ: আমি একটা থিসিস তৈরি করছি, কিভাবে খরগোশ নেকড়ে খেতে পারে।
নেকড়ে: (কিছুটা বিরক্ত হয়ে) তুমি এভাবে সময় অপচয় করছ, তুমি মনে কর কেউ তোমার এই থিসিস প্রকাশ করবে!!!
খরগোশ: তোমার অস্বাভাবিক মনে হলে চল আমার বাসায় প্রমান দেখিয়ে দেই।
দুজনে খরগোশের গর্তের পথ ধরল, আগের মতো ১৫ মিনিট পর খরগোশ একা ফিরে এসে আবার টাইপরাইটারে মনযোগী হলো।
এবার এক ভাল্লুক জানতে চাইল: কি করছ?
খরগোশ: আমি থিসিস লিখছি কিভাবে খরগোশ ভাল্লুক খায়।
ভাল্লুক: তুমি কিছু একটা করছ এটা ভাল; কিন্তু বিষয়টা অসম্ভব।
খরগোশ: আহা, তবে চল আমার বাসায় তোমায় প্রমান দেখিয়ে আনি।
যখনি দুজনে গর্তে প্রবেশ করল, খরগোশ হাসিমুখে ভাল্লুকের সাথে গর্তে অপেক্ষমান সিংহের পরিচয় করিয়ে দিল … অতঃপর … …
মোরাল অব দ্যা ষ্টোরী …
তোমার থিসিস এর বিষয় কতটা অযোক্তিক বা হাস্যকর এটা মুখ্যবিষয় নয়, মুখ্যবিষয় কে তোমার সুপারভাইজর, এই বিষয়ে তোমায় সহায়তা করছে এবং বিষয়টা সে পছন্দ করছেন কিনা।
(তোমার কর্মদক্ষতার প্রদর্শনী চাইতে বিবেচ্য বিষয় তুমি বসের সুনজরে তো?)

গল্প-১

প্রচন্ড ঝড়ে ডুবে যাওয়া এক জাহাজের নাবিক অনেক কষ্টে কাঠের উপর ভাসতে ভাসতে এক বিছিন্ন দ্বীপে পৌছাল।বেশ খানিক পর্যবেক্ষনের পর নিশ্চিত হলেন দ্বীপে দ্বিতীয় কোন জনমানব নাই এবং এর দৃষ্টি সীমার মধ্যে অপরকোন স্হলভূমি নাই।
নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে খাবার খুজতে বের হয় এবং এখান থেকে দ্রুত উদ্ধারের উপায় সন্ধান করতে থাকল।
এক সপ্তাহ পর …
মোটামুটি মাথা গোঁজা যায় এমন একটা পাতা দিয়ে ছাউনি গড়ে তুলেছে, বেশকিছু বনজ ফল ঘরে এনে রেখেছে, রাতের অন্ধকার দুর করার জন্যে আগুন এর ব্যবস্হা করেছে এক কথায় নিজেকে মানিয়ে নেবার প্রস্তুতি সম্পন্ন।
হঠাৎ একদিন …
বিকালে তার ছাউনিতে ফিরে দেখে দুপুরের জ্বালানো চুলার আগুন যেকোনভাবে ছাউনিতে ছড়িয়ে গেছে এবং আগুন প্রায় সবকিছু শেষ করে দিয়েছে।
সমুদ্রতীরে অসহায় নাবিক নিজ ভাগ্যের প্রতি কুটুক্তি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে গেল।
সন্ধা ছুইছুই … …
নাবিক এর কাছে স্বপ্নের মতো ঝাপসা ভাবে মনেহচ্ছে বেশকিছু মানুষ তাকে টেনে তুলবার চেষ্টা করেছে। একটু থিতু হবার পর বুঝতে পারল আসলেই মানুষ তাকে ঘিরে আছে এবং তারা তাকে একটি জাহাজে তুলে নিল এবং নাবিককে অসহায় এর মতো এদিক ওদিক তাকাতে দেখে জাহাজের কাপ্তান প্রশ্ন করল- আপনি উদ্ধারের জন্যে স্মোক সীগনাল দেন নাই?
.
.
মোরাল অব দ্যা ষ্টোরী …
আমরা যখন অসহায় ভাবে যাকে মনেকরি দুভাগ্য প্রকৃতপক্ষে সেটা আল্লাহ্ এর আমাদের প্রতি অনুগ্রহ হয়ে থাকতে পারে।