Sunday, August 07, 2016

Sharaab or Khuda

These three poets are legendary in  Urdu literature as also their following couplets.

The poets Ghalib(1797-1869), Iqbal(1877-1938) and Faraz(1931-2008) present their views on the universality of God in the couplets.

It was not a feud. At best you can call it a poetic difference of opinion by intellectual and witty minds, spread across centuries.

Ghalib started it: In the 19th century , it was a bold statement. But then Ghalib was never known for meekness or following the crowd.

“Zahid, sharaab peene de masjid mein baith kar
Ya wo jagah bataa, jahaan Khuda nahin”

[Let me drink in a mosque; or tell me the place where there is no God.']

Allama Iqbal was not convinced and decided to reply about half a century later. So in the late 19th-early 20th  century, his poetic reply to Ghalib

“Masjid Khuda ka ghar hai, peene ki jagah nahin
Kaafir ke dil mein jaa, wahaan khuda nahin”

Mosque is the abode of God, not a place to drink. Go to the heart of a non
-believer because there God is not.

Faraz had the last word. (Later half of 19th century) .

“Kaafir ke dil se aaya hun, main ye dekh kar Faraz,
Khuda maujood hai wahaan, par usey pata nahin”

[I have returned from the heart of the disbeliever and i have observed : God is present in his heart too, but he just doesn’t know it. (he is ignorant/sleeping)

Tuesday, August 02, 2016

গল্প-৪

দুই বন্ধু প্রতিদিন বিকালে নৌকা ভাড়া নিয়ে মাছ শিকারে বের হয় …
আজ তাদের ভাগ্য বড়ই প্রশন্ন, মাত্র এক ঘন্টা এর মধ্যে ৩০-৩৫ টা মাছ ধরতে পারল এবং আশেপাশে ভাল করে তাকিয়ে দেখে বুঝতে পারল এই জায়গাটা এখনও অপর শিকারীদের কাছে অপরিচিত।
প্রথম বন্ধু: এটা মাছ ধরার জন্যে খুবই ভাল তুই এই স্হানটা ভালভাবে চিহ্ন দিয়ে রাখ।
দ্বিতীয় বন্ধু: ঠিক আছে।
.
পরদিন ঘাটে এসে …
প্রথম বন্ধু : গতকালকের জায়গাটা চমৎকার ছিল, চল ওখানে সরাসরি যাই। তুই ভাল ভাবে চিহ্ন দিয়ে রেখেছিলিতো?
দ্বিতীয় বন্ধু : অবশ্যই, আমি নৌকার নীচে এমনভাবে “X” চিহ্ন দিয়ে রেখেছি যাতে পানিতে কোনভাবে ধুয়েযেতে না পারে।
প্রথম বন্ধু : (বন্ধুর বোকামী দেখে হতবাক) ওরে গাধা, এটা কি করেছিস? আজ আমরা যে ঐ নৌকা ভাড়া পাব তোকে কে নিশ্চিত করেছে।

মোরাল অব দ্যা ষ্টোরী …
সঠিক সিদ্ধান্ত ও সঠিকভাবে কাজের সমন্নয়ের অভাব আপনার সর্বোচ্চ পরিশ্রমকে অনেক সময় হাস্যকর করে তুলতে পারে।

Monday, August 01, 2016

গল্প-৩

এক সুন্দরী বিক্রয়কর্মী, অফিস সহকারী ও তাদের পরিচালক অফিস বিরতীতে একত্রে মধ্যাহ্নভোজে বেড়িয়েছে। পথে হঠাৎ এক প্রাচীন তৈল প্রদীপ পড়ে থাকতে দেখতে পায়, স্বভাবগতভাবে বিক্রয়কর্মী অতি উৎসাহের সাথে এগিয়ে কিছু না ভেবেই আলতো করে পাশে লেগে থাকা ধুলা হাত দিয়ে মুছতে থাকে।
বিশাল এক দৈত্য বেড়িয়ে এল …
দৈত্য: আমি তিনটি ইচ্ছা পূরনে সক্ষম, তবে তোমরা তিনজন হওয়াতে প্রত্যেকে একটা করে ইচ্ছা প্রকাশ কর।
বিক্রয়কর্মী: আমি প্রথম … প্লিজ, … আমি বাহামা যেতে চাই, জগৎ সংসারের সকল চিন্তা ভুলে সমুদ্রস্হানের স্বাদ পেতে চাই।
…. ছুহ … … নিমেশে অদৃশ্য হয়ে গেল
অফিস সহকারী: এবার আমি, আমি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রতটে যেতে চাই সাথে থাকবে পছন্দের ম্যাসেজ, অফুরান পিনা কলোডাস ও আমার প্রিয়তমা …
… শেষ হবার সাথে সাথে … ছুহ … অদৃশ্য …
দৈত্য: এবার তোমার পালা (পরিচালক এর দিকে তাকিয়ে)
পরিচালক: (একটু বিরক্তির সাথে ভ্রু কুচকে) অফিসের মধ্যাহ্নভোজের বিরতী শেষ হবার সাথে সাথে আমার দুইজনকে একসাথে অফিসে দেখতে চাই।

মোরাল অব দ্যা ষ্টোরী …
প্রথম মতামতটা বসের জন্যে সংরক্ষিত রাখুন।

গল্প-২

চমৎকার রোদ্দজ্বল সকালে নিজ গর্তের একটু সামনে এক ছোট খরগোশ চোখের সামনে এক ভারী চশমা লাগিয়ে টস-টকাশ-টস … টস-টকাশ-টস করে পুরানো এক টাইপরাইটারে শব্দ করে চলেছে।
শব্দে আগ্রহী হয়ে সকালে হাঁটতে বের হওয়া নিঃসংগ শিয়াল এগিয়ে এল …
শিয়াল: কিরে ব্যটা, সাত-সকালে এমন পথের মাঝে কি করছিস?
খরগোশ: (গম্ভীর গলায়) আহা বিরক্ত করনা, আমি একটা থিসিস এর উপর কাজ করছি।
শিয়াল: (একটু আগ্রহী গলায়) হুম … তা কিসের উপর থিসিস?
খরগোশ: আমি লিখছি কিভাবে খরগোশ শিয়াল খায়।
শিয়াল: (হাসতে হাসতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল) ওরে, এতো মহা আহম্মকও জানে খরগোশের শিয়াল ধরা কেন শিয়ালের দিকে তাকাতেও সাহস লাগে।
খরগোশ: তবে চল ঝোপের পিছনের আমার বাসায়, তোমায় প্রমান দেখাই।
মিনিট ১৫ পর …
খরগোশ হাতে করে শিয়ালের একটা হাড় চাটতে চাটতে ফিরলো এবং পুনরায় অসমাপ্ত লেখা এগিয়ে নিয়ে চলল।
খানিক পর একাকি এক নেকড়ে দেখতে পেল খরগোশের কঠোর পরিশ্রম, আগ্রহী হয়ে এগিয়ে এল …
নেকড়ে: কি এতো মনযোগ দিয়ে লিখছ?
খরগোশ: আমি একটা থিসিস তৈরি করছি, কিভাবে খরগোশ নেকড়ে খেতে পারে।
নেকড়ে: (কিছুটা বিরক্ত হয়ে) তুমি এভাবে সময় অপচয় করছ, তুমি মনে কর কেউ তোমার এই থিসিস প্রকাশ করবে!!!
খরগোশ: তোমার অস্বাভাবিক মনে হলে চল আমার বাসায় প্রমান দেখিয়ে দেই।
দুজনে খরগোশের গর্তের পথ ধরল, আগের মতো ১৫ মিনিট পর খরগোশ একা ফিরে এসে আবার টাইপরাইটারে মনযোগী হলো।
এবার এক ভাল্লুক জানতে চাইল: কি করছ?
খরগোশ: আমি থিসিস লিখছি কিভাবে খরগোশ ভাল্লুক খায়।
ভাল্লুক: তুমি কিছু একটা করছ এটা ভাল; কিন্তু বিষয়টা অসম্ভব।
খরগোশ: আহা, তবে চল আমার বাসায় তোমায় প্রমান দেখিয়ে আনি।
যখনি দুজনে গর্তে প্রবেশ করল, খরগোশ হাসিমুখে ভাল্লুকের সাথে গর্তে অপেক্ষমান সিংহের পরিচয় করিয়ে দিল … অতঃপর … …
মোরাল অব দ্যা ষ্টোরী …
তোমার থিসিস এর বিষয় কতটা অযোক্তিক বা হাস্যকর এটা মুখ্যবিষয় নয়, মুখ্যবিষয় কে তোমার সুপারভাইজর, এই বিষয়ে তোমায় সহায়তা করছে এবং বিষয়টা সে পছন্দ করছেন কিনা।
(তোমার কর্মদক্ষতার প্রদর্শনী চাইতে বিবেচ্য বিষয় তুমি বসের সুনজরে তো?)

গল্প-১

প্রচন্ড ঝড়ে ডুবে যাওয়া এক জাহাজের নাবিক অনেক কষ্টে কাঠের উপর ভাসতে ভাসতে এক বিছিন্ন দ্বীপে পৌছাল।বেশ খানিক পর্যবেক্ষনের পর নিশ্চিত হলেন দ্বীপে দ্বিতীয় কোন জনমানব নাই এবং এর দৃষ্টি সীমার মধ্যে অপরকোন স্হলভূমি নাই।
নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে খাবার খুজতে বের হয় এবং এখান থেকে দ্রুত উদ্ধারের উপায় সন্ধান করতে থাকল।
এক সপ্তাহ পর …
মোটামুটি মাথা গোঁজা যায় এমন একটা পাতা দিয়ে ছাউনি গড়ে তুলেছে, বেশকিছু বনজ ফল ঘরে এনে রেখেছে, রাতের অন্ধকার দুর করার জন্যে আগুন এর ব্যবস্হা করেছে এক কথায় নিজেকে মানিয়ে নেবার প্রস্তুতি সম্পন্ন।
হঠাৎ একদিন …
বিকালে তার ছাউনিতে ফিরে দেখে দুপুরের জ্বালানো চুলার আগুন যেকোনভাবে ছাউনিতে ছড়িয়ে গেছে এবং আগুন প্রায় সবকিছু শেষ করে দিয়েছে।
সমুদ্রতীরে অসহায় নাবিক নিজ ভাগ্যের প্রতি কুটুক্তি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে গেল।
সন্ধা ছুইছুই … …
নাবিক এর কাছে স্বপ্নের মতো ঝাপসা ভাবে মনেহচ্ছে বেশকিছু মানুষ তাকে টেনে তুলবার চেষ্টা করেছে। একটু থিতু হবার পর বুঝতে পারল আসলেই মানুষ তাকে ঘিরে আছে এবং তারা তাকে একটি জাহাজে তুলে নিল এবং নাবিককে অসহায় এর মতো এদিক ওদিক তাকাতে দেখে জাহাজের কাপ্তান প্রশ্ন করল- আপনি উদ্ধারের জন্যে স্মোক সীগনাল দেন নাই?
.
.
মোরাল অব দ্যা ষ্টোরী …
আমরা যখন অসহায় ভাবে যাকে মনেকরি দুভাগ্য প্রকৃতপক্ষে সেটা আল্লাহ্ এর আমাদের প্রতি অনুগ্রহ হয়ে থাকতে পারে।

তুমি যে আছো বলেই

তুমি যে আছো বলেই
জোনাকি জ্বালে বাতি
মাখামাখি জোসনায়
চাদনী আলোয় মাতি

তুমি যে আছো বলেই
সুবে-সাদিকেই শুরু দিন
ভোরের বাতাশে তানপুরা
বেহাগে শিক্ত হয় জমিন

তুমি যে আছো বলেই
দুপর রোদে তাপে তপ্ত
দরজা জানালা দিয়ে
লু হাওয়া শরীর উন্মুক্ত

তুমি যে আছো বলেই
বিকেল হয় স্নিগ্ধ মাখা
চোখে চোখে ভালবাসা
আলতো হাতে হাত রাখা

তুমি যে আছো বলেই
আমিতে আছি প্রতিক্ষণ
আছে আগামি প্রতিশ্রুতি
আসবে আর একটা দিন

Sunday, July 31, 2016

কি চাই

তুমি আছো বলে আকাশটা নীল হল
আমিও বিভোর হলাম স্বপ্নীল আকাশে

তোমার স্পর্শ বিমোহিত করে
আলোকিত করে আমার ভুবন

অধির আগ্রহে তোমাকে দেখার অপেক্ষা
আমাকে আশান্বিত করে

পাবার অপেক্ষা আমাকে বাঁচতে শেখায়
বিমুখ বসন্ত ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকারে

তোমাকে দেখতে চাই
দেখাতে চাই নিজেকে

Thursday, July 28, 2016

জাপানীরা

"আজ আপনাদের তথ্য দিতে চেষ্টা করব, তবে আপনি লজ্জা পাবেন কিনা জানি না।"

★জাপানী দল বিশ্বকাপে হেরে গেলেও জাপানী দর্শকরা গ্যালারী পরিষ্কার করে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। এ কেমন কথা? এটা কি কোন পরাজয়ের ভাষা! হেরেছিস- রেফারীর গুষ্টি তুলে গালি দে- বলে দে পয়সা খেয়েছে। বিয়ারের ক্যান, কোকের ক্যান, চিনাবাদামের খোসা যা পাস ছুড়ে দে। দুই দিন হরতাল ডাক। অন্তত বুদ্বিজীবিদের ভাষায় এটা তো বলতে পারিস যে খেলোয়াড় নির্বাচন ঠিক হয়নি- সরকারের অথবা বিরোধী দলের হাত আছে।
--
দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হেরে গিয়ে জাপানের সম্রাট হিরোহিতো আমেরিকার প্রতিনিধি ম্যাক আর্থারের কাছে গেলেন। প্রতীকি আইটেম হিসাবে নিয়ে গেলেন এক ব্যাগ চাল। হারাকিরি ভঙ্গিতে হাটু গেড়ে মাথা পেতে দিয়ে বললেন- আমার মাথা কেটে নেন আর এই চাল টুকু গ্রহণ করুন। আমার প্রজাদের রক্ষা করুন। ওরা ভাত পছন্দ করে। ওদের যেন ভাতের অভাব না হয়।
আরে ব্যাটা তুই যুদ্ধে হেরেছিস তোর আত্মীয় স্বজন নিয়ে পালিয়ে যা। তোর দেশের চারিদিকেই তো পানি। নৌপথে কিভাবে পালাতে হয় আমাদের ইতিহাস (লক্ষণ সেন) থেকে শিখে নে। কোরিয়া বা তাইওয়ান যা। ওখানকার মীরযাফরদের সাথে হাত মিলা। সেখান থেকে হুংকার দে।
সম্রাট হিরোহিতোর এই ক্যারেক্টার আমেরিকানদের পছন্দ হলো। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের কুখ্যাত মহানায়কদের মধ্যে কেবলমাত্র হিরোহিতোকে বিনা আঘাতে বাচিয়ে রাখা হলো।
--
জাপানে পড়তে আসা এক বাংলাদেশী ভাই একদিন ফোনে বললো- ভাই, বড়ই লজ্জায় আছি।
কেন কি হয়েছে ?
ড্রইং ক্লাসে ড্রইং বক্স নিয়ে যাইনি।
তো?
জাপানী স্যার বড় একটা শিক্ষা দিয়েছেন।
কি করেছে?
আমার কাছে এসে উল্টা ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন আজ যে ড্রইং বক্স নিয়ে আসতে হবে তা স্মরণ রাখার মত জোর দিয়ে আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারেন নি। তাই সে দুঃখিত।
হুম।
আমি তো আর কোন দিন ড্রইং বক্স নিতে ভুলবো না, ভাই । আজ যদি সে আমাকে বকা দিত বা অন্য কোন শাস্তি দিত আমি কোন একটা মিথ্যা অজুহাত দিয়ে বাচার চেষ্টা করতাম।
--
২০১১ সালের ১১ই মার্চ। Tsunami র আগাম বার্তা শুনে এক ফিশারি কোম্পানীর মালিক সাতো সান প্রথমেই বাচাতে গেলেন তার কর্মচারীদের। হাতে সময় আছে মাত্র ৩০ মিনিট। প্রায়রিটি দিলেন বিদেশি (চাইনিজ) দের। একে একে সব কর্মচারীদের অফিস থেকে বের করে পাশের উচু টিলায় নিজ হাতে রেখে এলেন। সর্বশেষে গেলেন তার পরিবারের খোজ নিতে। ইতিমধ্যে Tsunami সাহেব এসে হাজির। সাতো সানকে চোখের সামনে কোলে তুলে ভাসিয়ে নিয়ে গেলেন। আজও খোজহীন হয়ে আছেন তার পরিবার। ইসস সাতো সান যদি রানা প্লাজার মালিকের সাথে একটা বার দেখা করার সুযোগ পেতেন ।
সাতো সান অমর হলেন চায়না তে। চাইনিজরা দেশে ফিরে গিয়ে শহরের চৌরাস্তায় উনার প্রতিকৃতি বানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন।
--
নয় বছরের এক ছেলে। স্কুলে ক্লাস করছিল। Tsunami-র আগমনের কথা শুনে স্কুল কর্তৃপক্ষ সব ছাত্রদের তিন তলায় জড়ো করলো। তিন তলার বেলকনি থেকে দেখলো তার বাবা আসছে গাড়ি নিয়ে। গাড়িকে ধাওয়া করে আসছে ফোসফোসে পানির সৈন্য দল। গাড়ির স্পিড পানির স্পিডের কাছে হার মেনে গেলো। চোখের সামনে নাই হয়ে গেল বাবা। সৈকতের নিকটেই ছিল তাদের বাসা। মা আর ছোট ভাই ভেসে গেছে আরো আগে। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে ছেলেটি আশ্রয় শিবিরে উঠলো। শিবিরের সবাই ক্ষুধায় আর শীতে কাপছে। ভলান্টিয়াররা রুটি বিলি করছেন। আশ্রিতরা লাইনে দাড়িয়ে আছেন। ছেলেটিও আছে। এক বিদেশী সাংবাদিক দেখলেন, যদ্দুর খাদ্য (রুটি) আছে তাতে লাইনের সবার হবেনা । ছেলেটির কপালে জুটবে না। সাংবাদিক সাহেব তার কোট পকেটে রাখা নিজের ভাগের রুটি দুটো ছেলেটিকে দিলেন। ছেলেটি ধন্যবাদ জানিয়ে রুটি গ্রহন করলো। তারপর যেখান থেকে রুটি ডিস্ট্রিবিউশন হচ্ছিল সেখানেই ফেরত দিয়ে আবার লাইনে এসে দাড়াল। সাংবাদিক সাহেব কৌতুহল ঢাকতে পারলেন না। ছেলেটিকে জিজ্ঞাস করলেন - এ কাজ কেন করলে খোকা? খোকা উত্তর দিল- বন্টন তো ওখান থেকে হচ্ছে। উনাদের হাতে থাকলে বন্টনে সমতা আসবে। তাছাড়া লাইনে আমার চেয়েও বেশী ক্ষুধার্ত লোক থাকতে পারে।
সহানুভুতিশীল হতে গিয়ে বন্টনে অসমতা এনেছেন- এই ভেবে সাংবাদিক সাহেবের পাপবোধ হলো। এই ছেলের কাছে কি বলে ক্ষমা চাইবেন ভাষা হারালেন।
--
যাদের জাপান সম্পর্কে ধারণা আছে তারা সবাই জানেন...যদি ট্রেনে বা বাসে কোন জিনিস হারিয়ে যায়, অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন, ঐ জিনিস আপনি অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাবেন। গভীর রাতে কোন ট্রাফিক নেই, কিন্তু পথচারী ঠিকই ট্রাফিক বাতি সবুজ না হওয়া পর্যন্ত পথ পার হচ্ছেন না। ট্রেনে বাসে টিকিট ফাকি দেয়ার হার (%) প্রায় শুন্যের কোঠায়। একবার ভুলে ঘরের দরজা লক না করে এক বাংলাদেশী দেশে গেলেন মাস খানেক পর এসে দেখেন, যেমন ঘর রেখে গেছেন, ঠিক তেমনই আছে।
এই শিক্ষা জাপানীরা কোথায় পায়?
সামাজিক শিক্ষা শুরু হয় কিন্ডারগার্টেন লেভেল থেকে। সর্বপ্রথম যে তিনটি শব্দ এদের শিখানো হয় তা হলো-
কননিচিওয়া (হ্যালো) - পরিচিত মানুষকে দেখা মাত্র হ্যালো বলবে।
আরিগাতোউ (ধন্যবাদ) - সমাজে বাস করতে হলে একে অপরকে উপকার করবে। তুমি যদি বিন্দুমাত্র কারো দ্বারা উপকৃত হও তাহলে ধন্যবাদ দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।
গোমেননাসাই (দুঃখিত) - মানুষ মাত্রই ভুল করবে এবং সেই ভুলের জন্য ক্ষমা চাইবে।
এগুলো যে শুধু মুখস্ত করে শিখানো হয় তা না। বাস্তবে শিক্ষকরা প্রো-এক্টিভলি সুযোগ পেলেই ব্যবহার করবেন এবং করিয়ে ছাড়বেন।
সমাজে এই তিনটি শব্দের গুরুত্ব কত তা নিশ্চয়ই অনুধাবন করতে পারছেন। এই শিক্ষাটা এবং প্রাকটিস ওরা বাল্যকাল থেকে করতে শিখে। আমাদের রাজনীতিবিদরা বাল্যকালটা যদি কোন রকমে জাপানের কিন্ডারগার্টেনে কাটিয়ে আসতে পারতেন।
কিন্ডারগার্টেন থেকেই স্বনির্ভরতার ট্রেনিং দেয়া হয়। সমাজে মানুষ হিসাবে বসবাস করার জন্য যা দরকার - নিজের বই খাতা, খেলনা, বিছানা নিজে গোছানো; টয়লেট ব্যবহার, পরিষ্কার করা; নিজের খাবার নিজে খাওয়া, প্লেট গোছানো ইত্যাদি। প্রাইমারী স্কুল থেকে এরা নিজেরা দল বেধে স্কুলে যায়। দল ঠিক করে দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ট্রাফিক আইন, বাস ট্রেনে চড়ার নিয়ম কানুন সবই শিখানো হয়। আপনার গাড়ি আছে, বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসবেন, উল্টা আপনাকে লজ্জা পেয়ে আসতে হবে।
ক্লাস সেভেন থেকে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতে পারবে। ক্লাসে কে ধনী, কে গরীব, কে প্রথম কে দ্বিতীয় এসব বৈষম্য যেন তৈরী না হয় তার জন্য যথেষ্ট সতর্ক থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। ক্লাসে রোল নং ১, মানে এই নয় যে একাডেমিক পারফরম্যান্স সবচেয়ে ভাল। রোল নং তৈরী হয় নামের বানানের ক্রমানুসারে।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার সমস্ত আইটেম গুলো থাকে গ্রুপ পারফরম্যান্স দেখার জন্য - ইন্ডিভিজুয়েল নয়। সারা স্কুলের ছেলে মেয়েদের ভাগ করা হয় কয়েকটা টা গ্রুপে- সাদা দল, লাল দল, সবুজ দল ইত্যাদি। গ্রুপে কাজ করার ট্রেনিংটা পেয়ে যায় খেলাধুলা জাতীয় এক্টিভিটি থেকে। এই জন্যই হয়তো জাপানে বড় লিডার তৈরি হয়না কিন্তু গড়ে এরা সবার সেরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার আগে ১২ বছর শিক্ষাটা সম্ভবত ইউনিভার্সেল। আমাদেরটা হলো ৫ +৫ +২ অর্থাৎ প্রাইমারী ৫ বছর, হাইস্কুল ৫ বছর তারপর কলেজ ২ বছর। জাপানে ৬+৩+৩। শতকরা ১০০ ভাগ শিশুই ৬ বছর বয়সে প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি হয়। কারো বয়স জানতে হলে সিম্প্লি জিজ্ঞাস করুন কোন ক্লাসে পড়ে। তার সাথে ৫ যোগ করে ফেলুন।
১৮ বছর বয়সে এরা সমাজে অনেকটা প্রাপ্ত বয়স্ক-র স্ট্যাটাস পেয়ে যায়। এই স্ট্যাটাসে তারা ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালাতে পারে। ছেলেরা বিয়ে করতে পারে (মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৬ বছর)। ২০ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রাপ্ত বয়স্কে পা দেয় এবং ভোট দিতে পারে।

[Collected]

Tuesday, July 26, 2016

ভাঙা মন

পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সস্তা দরে বিক্রী হয় মানুষের ভাঙা মন। আর মন তখনই ভাঙে যখন সে মন কাওকে ভালোবাসতে জানে। যে ভালোবাসতে জানেনা তার মন হাজার চেষ্টা করেও তুমি ভাংতে পারবেনা। তুমি চলে যাবে হাসতে হাসতে সে দুদিনের মাথায় অন্য কারো হবে!

আর তুমি? ভাঙা মন?  তোমার ভাঙা মনে রোজ চাপ চাপ কষ্ট জমা হবে। চোরা বালিতে তলিয়ে যাওয়ার মত করে হারিয়ে যাবে তুমি ! যতবারি তুমি বেরিয়ে আসতে চাইবে ততোবার আরো গভীরে তলিয়ে যাবে।  তোমার চার পাশে একটা দেয়াল তৈরি হবে,কাটার দেয়াল। মুক্তির নেশায় বার বার তুমি সে দেয়ালে ক্ষত বিক্ষত হবে। বার বার তার প্রতি ঘৃনায় তোমার মুখ বাঁকিয়ে আসলেও সুন্দর স্মৃতি গুলো তোমায় কাঁদিয়েই যাবে।

কিছুতেই তুমি মানতে পারবেনা মানুষটা আজ বদলে গেছে! তোমার বার বার মনে হবে ভয়ংকর কোনো দু:স্বপ্ন দেখছো একটু পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে।  এত কিছুর পরেও সে এসে বলবে আমার ভুল হয়ে গেছে আর তুমি তাকে ক্ষমা করে দিবে।

সে আর কোনোদিন আসবেনা! অনেক গুলো রাত অসস্র অশ্রু ঝড়িয়ে একদিন তুমি স্বাভাবিক হবে। তোমার জীবনে আবার নতুন কেউ আসবে। ভাঙা মনের সব চেয়ে বড় দোষ হলো এরা বার বার প্রেমে পড়ে! কাওকে ভোলার জন্য আবার নতুন করে কাওকে বিশ্বাস করে। অথচো বোকা মন জানেনা ভাঙা মনের মুল্য কত সস্তা। যে মানুষটা তোমার চোখের পানি মুছে দিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখাবে একদিন সে মানুষটাও তোমায় লুটে পুটে ছুঁড়ে ফেলে দিবে! যাকে তুমি নতুন করে ভালোবেসেছো সে তোমায় ভালোবাসেনি তোমার ভাঙা মনের সুযোগ নিয়েছে মাত্র!

একটা কথা জেনে রাখো যতক্ষন তুমি তোমার নিজেকে না বদলাবে কেউ তোমায় বদলে দিবেনা। মনের কষ্টে তুমি তোমার ভাঙা মনের ঠিকানা অন্য কাওকে দিচ্ছ। ভেবে আছো সে হয়তো তোমার ক্ষত সারিয়ে দিবে! আসলে তুমি তোমার মনের ফাঁটলটা তাকে চিঁনিয়ে দিচ্ছ, সে ঠিক পুনরায় ওই ফাটলটাতেই আঘাত হানবে। এবার তুমি শুধু ভাঙবে না চুরমার হয়ে যাবে।

হাতের মুঠি শক্ত করে একবার তুমি ভাবো, তোমার থেকে তোমায় আর কে বেশি ভালোবাসে? এইযে তুমি কষ্ট পাচ্ছ তার চলে যাওয়া দেখে, আসলে তুমি তার চলে যাওয়া দেখে কষ্ট পাচ্ছনা, কষ্ট পাচ্ছ নিজের একলা জীবনের কথা ভেবে।

অতএব যে হাঁরিয়ে গিয়েছে তাকে ভুলে গিয়ে নিজেকে ভালবাস। ভাঙা মনের সবচেয়ে বড় গুন কি জানো?  একবার যদি এই মন আবেগটাকে জেদে বদলাতে পারে তাহলে এই মন সবার ধ্রা ছোঁয়ার ঊর্ধে যেতে পারে। এমন কিছু করো যাতে দশ জন তোমার দিকে তাঁকিয়ে থাকে। তবেই এমন একদিন আসবে দেখবে সেদিন যে মানুষটার কথা ভেবে রাতের পর রাত বালিশ ভিজিয়েছ তার কথা ভেবেই তোমার হাসি পাবে। ফেলে আসা ক্ষত বিক্ষত জীবনটাকে তোমার পাগলামি মনে হবে।