Sunday, November 27, 2016

ফিদেল কাস্ত্রো: বিদায় ‘কমান্দান্তে’

তার নামে কোনো রাস্তা নেই কিউবায়, নেই কোনো মূর্তিও; এসবের প্রয়োজনও অবশ‌্য নেই ফিদেল কাস্ত্রোর; দেশের সীমানা ছাড়িয়ে কোটি মানুষের মনে তার নাম।

দেশে বিরোধীদের চোখে তিনি ‘স্বৈরাচার’, কট্টর পুঁজিবাদী দেশগুলোর কাছে তার পরিচয় ‘একনায়ক’; বিপরীতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছে তিনি ‘আস্থার প্রতীক’, অনুসারীদের কাছে তিনি ‘এল কমান্দান্তে (দি কমান্ডার)’, মুক্তি সংগ্রামী সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ‘কিংবদন্তি’।

ক‌্যারিবীয় সাগরের যুক্তরাষ্ট্রের ধনীদের অবকাশ যাপনের একটি বিনোদন কেন্দ্র কিউবাকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে, ওয়াশিংটনের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে সেখানে লাল পতাকা উড্ডীন রেখে ৫ দশকজুড়ে বিশ্ববাসীর আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো।

“১৯৫৯ সালে যখন ক্ষমতা দখল করেন, তখন খুব কম লোকই ভাবছিল ফিদেল ক‌াস্ত্রো কিছু করতে পারবেন,” বলছেন কিউবা বিষয়ক আমেরিকান বোদ্ধা ড‌্যান এরিকসন।

কিন্তু থেমে থাকেননি ফিদেল; বিপক্ষ মত, দেশের উপর অর্থনৈতিক অবরোধ, হত‌্যার ষড়যন্ত্র পেরিয়ে একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি; যা টিকে আছে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পরও।

ভগ্নস্বাস্থ‌্য নিয়ে চলতে চলতে ৯০ বছর বয়সে শনিবার বিদায় নিলেও সব কিছু বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় কোলের মধ‌্যে একটি কমিউনিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে তা টিকিয়ে রাখার জন‌্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয়ও হয়ে থাকবেন ফিদেল কাস্ত্রো।

আর তাই আদর্শ ভিন্ন হলেও মৃত‌্যুর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এই ফিদেল কাস্ত্রোকে বিংশ শতকের প্রতীক বলে অভিহিত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।

১৯২৬ সালের ১৩ অগাস্ট কিউবার পূর্বাঞ্চলীয় ‍ওরিয়েন্তে প্রদেশে বিরান শহরের কাছে জন্ম ফিদেল আলেজান্দ্রো কাস্ত্রো রুসের। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তৃতীয় ফিদেলের বাবা ছিলেন ধনী চিনিকল মালিক অ্যাঞ্জেল কাস্ত্রো। ফিদেলের মা লিনা রুজ গনজালেস। ভাই রাউল ও র‌্যামন ছাড়াও ফিদেল বড় হয়েছেন বোন অ্যাঞ্জেলা, এমা ও অগাস্টিনার সাহচর্যে।

স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত অ্যাঞ্জেল তখন মার্কিন নিয়ন্ত্রণাধীন ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতেন।

ফিদেলের পড়াশোনা শুরু হয় প্রাইভেট জেসুইট বোর্ডিং স্কুলে; এরপর সান্তিয়াগোর ডলোরস কলেজ এবং হাভানার বেলেন কলেজ পেরিয়ে কাস্ত্রো ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব হাভানার ল’ স্কুলে।

স্কুলে থাকতেই পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় খ্যাতি ছিল ফিদেলের। সব মিলিয়ে স্বচ্ছল পরিবারের ছেলে হিসেবে আইনজীবী হয়ে সহজ-সরল দিন কাটানো তার জন‌্য কঠিন ছিল না।

কিন্তু ফিদেল বেছে নেন বন্ধুর পথ। হাভানার ল স্কুলে এসে জড়িয়ে পড়েন ছাত্র আন্দোলনে। ওই সময়েই তার মনে কিউবান জাতীয়তাবোধ, সাম্রাজ্যবাদবিরোধিতা ও সমাজতন্ত্রের প্রতি পক্ষপাতের ছাপ পড়ে।

১৯৪৭ সালে ডমিনিকান রিপাবলিকে তখনকার স্বৈরশাসক রাফায়েল ত্রুজিলোকে উৎখাতে এক বিদ্রোহে অংশ নেন ফিদেল। তাতে ব্যর্থ হলেও দমে যাননি তিনি। পরের বছর চলে যান কলম্বিয়ার বোগোতায়। সেখানে তাকে দেখা যায় সরকারবিরোধী দাঙ্গায়।

একই বছর কাস্ত্রো যোগ দেন সংস্কারপন্থি দল ‘পার্টি দো অর্তোদক্সোতে (অর্থোডক্স পার্টি)’। কমিউনিস্টবিরোধী ওই দলের প্রার্থী এদুয়ার্দো চিবা ১৯৪৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও ফিদেল তাকে পুনরায় নির্বাচন করতে প্রেরণা জোগান।

রাজনৈতিক দলে যোগদানের সময়ই বিয়ে করেন ফিদেল। প্রথম স্ত্রী মিরতা দিয়াজ বালার্তের কোলে জন্ম নেয় তার সন্তান ফিদেল জুনিয়র।

ওই সময়ই মার্কসবাদে আকৃষ্ট হন ফিদেল; একইসঙ্গে কিউবান কংগ্রেস নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ১৯৫২ সালে জেনারেল বাতিস্তা নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে পরবর্তী নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করলে কাস্ত্রো ও তার দলের কয়েক সদস্য মার্কিন মদতপুষ্ট স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন।

এজন্য তারা ‘দ্য মুভমেন্ট’ নামে একটি গ্রুপ গঠন করেন। ১৯৫৩-র ২৬ জুলাই দ্য ‍মুভমেন্টের ১৫০ সদস্য কিউবার সান্তিয়াগোতে থাকা মানকাদা মিলিটারি ব্যারাকে আক্রমণ করে।

ওই অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে বাতিস্তা সরকার কাস্ত্রোকে বন্দি করে। এরপর এক ‘প্রহসনের’ বিচারে তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বিচারকালে ফিদেলের ভাষণ তাকে তুমুল জনপ্রিয় করে তোলে। ওই ভাষণে তিনি বলেছিলেন- ‘আমাকে অপরাধী বানাতে পার, কিন্তু ইতিহাস আমাকে মুক্তি দেবে।”

বিচারে ফিদেলের জীবিত সহযোগীদেরও নানা মেয়াদে সাজা হয়, এর মধ্যে তার ছোটভাই রাউলও ছিলেন।

জেলে থাকার সময় ফিদেল তার দলের নাম বদলে রাখেন ‘টুয়েন্টি সিক্সথ অব জুলাই ‍মুভমেন্ট’। দুই বছর পর এক ‍চুক্তির বলে মুক্তি পেয়ে সহযোগীদের নিয়ে মেক্সিকোয় পাড়ি জমান ফিদেল।

সেখানেই দেখা হয় আর্জেন্টাইন চে গেভারার সঙ্গে; চিকিৎসক গেভারাও তখন স্বপ্ন দেখছেন পুরো দক্ষিণ আমেরিকার বদলে দেওয়ার। এজন্য সহিংস হতেও আপত্তি নেই তার। 

মেক্সিকোতেই ফিদেল, রাউল ও চে পরিকল্পনা করেন কিউবায় পুনরায় ফিরে গিয়ে বাতিস্তা সরকার উৎখাত করবেন। ১৯৫৬-র ২ ডিসেম্বর ফিদেল আর তার ৮১ জন সহযোগী অস্ত্রশস্ত্রসহ ছোট্ট নৌকা ‘গ্রানমা’য় চেপে কিউবার উত্তরাঞ্চলের মানজানিলোতে নামার পরিকল্পনা করেন।

তাদের আসার খবর পেয়ে বাতিস্তা সেখানে বাহিনী পাঠান। ফিদেলরা নামার সময় গুলি চালানো হলে বেশ কয়েকজন নিহত হন। চে আর রাউলসহ বাকিদের নিয়ে সিয়েরা মায়েস্ত্রোর পার্বত‌্য জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেন ফিদেল, সেখানে ঘাঁটি গাঁড়েন।

সরকারি বাহিনীর সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধ শুরুর পর জনগণের তুমুল সমর্থন নিয়ে ১৯৫৮-র শেষ দিক থেকে ফিদেল বাহিনী একের পর এক শহর দখল করতে থাকে।

চূড়ান্ত লড়াইয়ে ১৯৫৯-র জানুয়ারিতে কিউবা দখলে নেয় ‘টুয়েন্টি সিক্সথ অব জুলাই ‍মুভমেন্ট’; বাতিস্তা পালিয়ে আশ্রয় নেন ডমিনিকান রিপাবলিকে।

ফিদেল কাস্ত্রোর সমর্থন নিয়ে ওই বছরই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ম্যানুয়েল উরুতিয়া; হোসে মিরো কর্দোনা হন প্রধানমন্ত্রী। ফিদেলকে দেওয়া হয় সেনাপ্রধানের দায়িত্ব।

পরের মাসেই মিরো পদত্যাগ করলে প্রধানমন্ত্রী হন ফিদেল। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কারখানা এবং খামারগুলোকে জাতীয়করণ করেন তিনি, করেন ভূমি সংস্কার।

এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে ফিদেল নেতৃত্বাধীন সরকারের। ওই সময় কাস্ত্রো বারবার বলেছেন, তিনি ‘কমিউনিস্ট’ নন, যদিও তার সরকারের রূপরেখার সঙ্গে সোভিয়েত ঘরানার মিল পাওয়া যাচ্ছিল।

ওই বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান ফিদেল। তবে বারবার চেষ্টা করেও পরাশক্তি প্রতিবেশী দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেন হাওয়ারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তিনি।

পরের মাসে কিউবাতে ফিরে করেন ‘ফার্স্ট এগ্রেরিয়ান রিফর্ম অ্যাক্ট’। ওই আইনের অধীনে ব্যক্তিগত সম্পত্তির পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং একইসঙ্গে কিউবায় বিদেশি কোম্পানির সম্পদ জাতীয়করণ করেন।

ওই বছরের শেষ দিক থেকে সোভিয়েতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে জোর প্রচেষ্টা চালান ফিদেল। ১৯৬০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং তেল কেনার চুক্তি করেন।

যুক্তরাষ্ট্র মালিকানাধীন কোম্পানিগুলো ওই তেল পরিশোধনে আপত্তি জানালে ফিদেল তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেন। তখন যুক্তরাষ্ট্র কিউবা থেকে চিনি কেনার নির্ধারিত কোটা বাতিল করে; চাপিয়ে দেয় নিষেধাজ্ঞা।

ক্ষমতা নেওয়ার পর ১৯৬১ সালই ছিল ফিদেল কাস্ত্রোর জন্য সবচেয়ে সঙ্কটকালীন বছর। বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে ছেদ টানে।

ওই বছরের এপ্রিলের ফিদেল কাস্ত্রো কিউবাকে ‘সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র’ ঘোষণা করেন।

সিআইয়ের প্রশিক্ষণে ওই বছরই কিউবা থেকে পালিয়ে যাওয়া ১৪শ’ দেশত্যাগী কিউবার ‘বে অফ পিগে’ ফিরে ফিদেলকে উৎখাতের চেষ্টা চালায়।

কিউবার বিপ্লবীবাহিনী ওই বিদ্রোহ কঠোর হাতে দমন করে। প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র এ বিদ্রোহের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করলেও পরে উন্মোচিত হয়- ওই বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল মার্কিনের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, হাতে তুলে দিয়েছিল মার্কিন অস্ত্র।

এরপর নিজেকে মার্কস-লেনিনের অনুসারী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং জানান, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নীতিকে দেশ পরিচালনায় বেছে নেওয়া হয়েছে।

পরের বছর ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র কিউবার উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই বছরের অক্টোবরে তুরস্কে মার্কিন জুপিটার মিসাইল বসানোর পাল্টা হিসেবে কিউবায় সোভিয়েত মিসাইল বসানোর গোপন পরিকল্পনা করেন কাস্ত্রো ও ক্রুশ্চেভ।

গোয়েন্দা তথ্যে এ ব্যাপার নিশ্চিত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি কিউবা থেকে মিসাইল সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়; একইসঙ্গে তার দেশের বাহিনীকে কিউবার জলসীমা অভিমুখী সব জলযানে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেয়।

টান টান উত্তেজনায় ১৩ দিনের আলাপ-আলোচনার পর কিউবায় মিসাইল বসানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সোভিয়েত ইউনিয়ন। বদলে যুক্তরাষ্ট্র  তুরস্ক থেকে তাদের মিসাইল সরিয়ে নেয় এবং কিউবায় হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।

১৯৬৫ সালে কাস্ত্রো কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে নিজের দলকে একীভূত করেন, নিজে হন দলের প্রধান। কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি আবির্ভূত হন যুক্তরাষ্ট্রের নীতির একনিষ্ঠ সমালোচক হিসেবে।

১৯৬৬ সালে কাস্ত্রো এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশে দেশে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত করতে গড়ে তোলেন নানান সহায়ক প্রতিষ্ঠান। পরের বছর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন লাতিন আমেরিকান সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, যার হাত ধরে এর পরের কয়েক দশকে ওই অঞ্চলের অনেকগুলো দেশেই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়।

১৯৭০ এর দশকে কাস্ত্রো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সোভিয়েত বিপ্লব এগিয়ে নিয়ে যেতে সামরিক সহায়তাও পাঠান। তার পাঠানো সেনাবাহিনী যুদ্ধ করে অ্যাঙ্গোলা, ইথিওপিয়া ও ইয়েমেনে।

ওই সময় সোভিয়েত ইউনিয়ন কিউবাকে সাহায্য করলেও বিভিন্ন দেশে সেনাসাহায্য পাঠাতে গিয়ে টান পড়ে কিউবার অর্থনীতিতে; পরে এ ধরনের অভিযান থেকে সরে আসেন ফিদেল।

১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলোর সম্মেলনে যোগ দেন কাস্ত্রো। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে দেখা হয় তার। দুই নেতাই একে অপরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন।

এই সময়কালে যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় সামরিক আগ্রাসন না চালালেও ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যা করতে একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যায় বলে গণমাধ‌্যমে খবর আসে।

কিউবার গোয়েন্দাদের দাবি অনুযায়ী, কেবল সিআইএ কাস্ত্রোকে হত্যার জন্য ৬৩৮টি চেষ্টা চালিয়েছে, যার মধ্যে আছে সিগারেটে বিস্ফোরক বা স্কুবা ডাইভিং স্যুটে বিষ মাখিয়ে; ছিল মাফিয়া স্টাইলে গুলি করে হত্যার চেষ্টাও।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক চেষ্টাকে নিয়ে কৌতূকও করেছেন ফিদেল কাস্ত্রো। বলেছেন- “হত্যার চেষ্টা এড়িয়ে যাওয়ার যদি কোনো অলিম্পিক ইভেন্ট থাকত, তাহলে নির্ঘাত তাতে স্বর্ণপদক জিততাম আমি।”

ফিদেল কাস্ত্রোর শাসনামলে কিউবাজুড়ে ১০ হাজার নতুন স্কুল খোলা হয়; শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া হয় পাহাড়ি, দুর্গম প্রত্যন্ত সব অঞ্চলে। এর ফলও মেলে হাতেনাতে; অল্প সময়ের মধ্যে কিউবার স্বাক্ষরতার হার হয়ে দাঁড়ায় ৯৮ শতাংশ।

কাস্ত্রোর হাত ধরেই কিউবা গড়ে তোলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা; কিউবানরা এখন এমন এক সমাজব্যবস্থায় বসবাস করছেন যেখানে শিশুমৃত্যুর হার হাজারে মাত্র ১১ জন।

কাস্ত্রোর সমালোচনাও কম নয়। পশ্চিমারা তাকে ‘অধিকার হত্যাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। তার আমলে বন্ধ হয়েছে পেশাজীবী আন্দোলন, শ্রমিক ইউনিয়নের ধর্মঘট করার অধিকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বেসরকারি গণমাধ্যম, বিপাকে পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিরোধী দলগুলোকে দমন-পীড়ন ও সেসব দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন এবং জোরপূর্বক দেশত্যাগ করানোরও অভিযোগ আছে ফিদেলের ‍বিরুদ্ধে।

১৯৯১ সালে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কিউবার অর্থনীতি বড় ধাক্কা খায়। সোভিয়েতের দেশগুলোতেই সিগারেট এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করত কিউবানরা; ওই জোটের কাছ থেকে কম মূল্যে পেত তেলও।

ধস ঠেকাতে নতুন পন্থা নেন ফিদেল কাস্ত্রো। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তার দেশের উপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চাপ দেওয়া শুরু করেন। এ সময় কিউবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুক্ত বাজার অর্থনীতি পদ্ধতি চালু হয়। উৎসাহ দেওয়া হয় বিদেশি বিনিয়োগকেও।

ডলারের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সঙ্গে স্বল্প আকারে পর্যটনও চালু করেন ফিদেল। প্রায় চার দশক পর ১৯৯৬ সালে আবারও যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান ফিদেল; এ সময় দেশত্যাগী কিউবানদের নিজ দেশে ফিরে ব্যবসা ও বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানান তিনি।

২০০১ সালে হারিকেন মিশেলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত কিউবায় যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য পাঠাতে চাইলেও তা ফিরিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নগদ টাকায় খাদ্য কেনার প্রস্তাব দেন ফিদেল।

জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ কমে গেলে তিনি ১১৮টি কারখানা বন্ধের আদেশ দেন এবং ভেনিজুয়েলায় চিকিৎসক পাঠিয়ে সেদেশ থেকে আমদানি করা তেলের অর্থ শোধ করেন। 

নব্বই দশকের শেষদিক থেকে কাস্ত্রোর বয়স ও সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা শুরু করে। ২০০৬ সালে কিউবার সরকার জানায়, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনালে রক্তক্ষরণ হওয়ায় কাস্ত্রোর একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

ওই বছরেরই ৩১ জুলাই আচমকা এক ঘোষণায় ছোটভাই ও সরকারের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা রাউলের হাতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেন ফিদেল।

২০০৮ এর ১৯ ফেব্রুয়ারি কাস্ত্রো আনুষ্ঠানিকভাবে কিউবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ৭৬ বছর বয়সী ছোট ভাই রাউলের হাতে ছেড়ে দেন। কিউবার জাতীয় কংগ্রেস রাউলের মনোনয়ন চূড়ান্ত করে। ফিদেল হন কমিউনিস্ট পার্টির ফার্স্ট সেক্রেটারি।

২০১১ সালে কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে রাউলকেই শীর্ষনেতা মনোনীত করে দলের নেতাকর্মীরা। হোসে রেমন মাচাদো ভেনট্যুরা হন দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা।

ফিদেল কাস্ত্রো তখন সংবাদ মাধ্যমকে জানান, পাঁচ বছর আগেই তিনি দলের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন, বাকিটুকু ছিল আনুষ্ঠানিকতা।

অবসরে নিজের অভিজ্ঞতা ও মত পত্রিকায় প্রকাশ করতে ‘রিফ্লেকশন অব ফিদেল’ নামে কলাম লেখা শুরু করেন ফিদেল। ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনী ‘মাই লাইফ’ প্রকাশিত হয়। ২০১১-র নভেম্বর থেকে পরের বছর জানুয়ারি পর্যন্ত পত্রিকায় ফিদেলের কলাম না পেয়ে তার স্বাস্থ্য নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে জানুয়ারিতেই সেই নীরবতা ভেঙে আবারও জ্বলে উঠেন ফিদেল।

আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বে না থাকলেও দেশ এবং দেশের বাইরে ফিদেলের প্রভাব ছিল আগের মতোই। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ধারাবাহিক সাক্ষাৎ করে যাচ্ছিলেন ফিদেল।

ভেনিজুয়েলার উগো চাবেস (প্রয়াত), নিকোলাস মাদুরো, বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসসহ লাতিন আমেরিকায় কিউবাঘনিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি।

ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে পোপ বেনেডিক্ট এবং পোপ ফ্রান্সিস কিউবার এ কিংবদন্তির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। ফুটবল কিংবদন্তি দিয়াগো মারাদোনাও ছুটে যেতেন এই কমিউনিস্ট নেতার সংস্পর্শ পেতে।

তবে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম দেশটি সফর করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে সাক্ষাৎ দেননি এ বিপ্লবী। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ থাকায় ওই সাক্ষাৎ হয়নি বলে পরে ফিদেল কাস্ত্রো জানান। বলেন- “সাম্রাজ্যের কাছ থেকে কোনো উপহার আমাদের দরকার নেই।”

২০০৮ সালে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর প্রকাশ‌্যে খুব একটা আসতেন না ফিদেল। এ বছর দুই বার প্রকাশ‌্যে দেখা গিয়েছিল তাকে। গত এপ্রিলে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে ভাষণে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার কথা তুলে সমর্থকদের প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন- “কিছু দিনের মধ‌্যে ৯০ পার করব, এটা আমি ভাবিনি।”

বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্টদের দুর্দিনের মধ‌্যে কংগ্রেসে ভাষণে তিনি কিউবাবাসীদের উদ্দীপ্ত করে বলেছিলেন, “কমিউনিজম এখনও প্রাসঙ্গিক, কিউবা বিজয়ীই থাকবে।”

[সূত্র: বিবিসি, বায়োগ্রাফি ডটকম, নোটেবল বায়োগ্রাফি, রয়টার্স]

Thursday, November 10, 2016

ওভাল অফিস: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর প্রথম দিন

ট্রাম্পের প্রথম দিনের কাল্পনিক ওভাল অফিস মিটিংঃ

ট্রাম্পঃ আমাদের এক্ষনি ISIS কে ধ্বংস করা উচিৎ, এই মুহূর্তেই।
সিআইএঃ আমরা সেটা করতে পারবো না, স্যার। আমরা ISIS কে টার্কি, সৌদি, কাতার এবং আরও অনেককে সাথে নিয়ে একসাথে গড়ে তুলেছি।
ট্রাম্পঃ ডেমোক্র্যাটরা ওদের গড়ে তুলেছে।
সিআইএঃ না স্যার, আমরা (CIA) ওদের গড়ে তুলেছি। ISIS কে আমাদের খুব দরকার। নাহলে আমরা ন্যাচারাল গ্যাস লবি থেকে ফান্ডিং হারাবো।

ট্রাম্পঃ তাহলে পাকিস্তানকে ফান্ডিং করা বন্ধ করো। ওদেরকে নিয়ে ইন্ডিয়াকে ডিল করতে দাও।
সিআইএঃ সেটাও করা যাবেনা স্যার।
ট্রাম্পঃ কেন?
সিআইএঃ ইন্ডিয়া তাহলে বেলুচিস্থানকে পাকিস্থান থেকে আলাদা করে ফেলবে।
ট্রাম্পঃ করুক, আমার কিছু যায় আসে না।
সিআইএঃ তাহলে কাশ্মীরে শান্তি চলে আসবে। তারা আমাদের অস্ত্র কেনা বন্ধ করে দেবে। ইন্ডিয়া সুপারপাওয়ার হয়ে যাবে। ইন্ডিয়াকে কাশ্মীরে ব্যাস্ত রাখার জন্য আমাদের পাকিস্থানকে ফান্ডিং করে যেতেই হবে।

ট্রাম্পঃ ওকে ওকে, তাহলে তালিবানকে ধ্বংস করো।
সিআইএঃ স্যার, সেটাও করা পসিবল না। রাশিয়াকে ৮০'র দশকে চেক দিয়ে রাখতে আমরা তালিবানকে সৃষ্টি করেছিলাম। এখন তারা পাকিস্থানকে ব্যাস্ত রেখেছে।
ট্রাম্পঃ আমাদের তাহলে মিডিল ইস্টের যেসব সরকার টেরোরিস্টদের স্পন্সর করছে তাদেরকে ধ্বংস করা উচিৎ। সৌদিকে দিয়ে শুরু করা যাক, কি বলো?
সিআইএঃ স্যার সেটা আরও অসম্ভব। আমরা ওইসব সরকারকে ক্ষমতায় এনেছি কারণ তাদের তেল আমাদের দরকার। এসব সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে হবে, নাহলে দেশগুলিতে ডেমোক্রেসি চলে আসবে। ডেমোক্রেসি চলে আসলে সর্বনাশ। তখন তাদের তেল সব তাদের নিজস্ব ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাবে। আমরা তেল হারাবো, স্যার।

ট্রাম্পঃ তাহলে চলো ইরান আক্রমণ করি।
সিআইএঃ সম্ভব না স্যার।
ট্রাম্পঃ কেন?
সিআইএঃ তাদের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে।
ট্রাম্পঃ কিসের আলোচনা?
সিআইএঃ আমরা আগে তাদের স্টিলথ ড্রোনগুলি ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা যদি এক্ষনি তাদের আক্রমণ করি তাহলে রাশিয়া তাদেরকে সাহায্য করবে এবং আমাদের সৈন্যকে নিমেষে ধ্বংস করে ফেলবে; যেমন সিরিয়াতে করেছিলো। তাছারা ইসরাইলকে চেক দিয়ে রাখতে আমাদের ইরানকে দরকার আছে।

ট্রাম্পঃ তাহলে ইরাককেই আবার আক্রমণ করা যাক।
সিআইএঃ স্যার, আমাদের বন্ধুরা (ISIS) অলরেডি ইরাকের এক তৃতীয়াংশের দখল নিয়ে রেখেছে।
ট্রাম্পঃ পুরো ইরাক কেন নয়?
সিআইএঃ কারণ আমাদের ইরাকের শিয়া সরকারকে দরকার ISIS কে চেক দিয়ে রাখার জন্য।

ট্রাম্পঃ ওকে ওকে, কিন্তু আমি মুসলিমদের আমেরিকায় ঢোকা বন্ধ করতেছি।
সিআইএঃ স্যার, সেটা আপনি করতে পারবেন না।
ট্রাম্পঃ কেন?
সিআইএঃ তাহলে আমাদের দেশের স্থানীয় জনগণ বেশী সাহসী হয়ে যাবে, তাদের মনে কোন ভয় থাকবে না। তাদেরকে এত সাহসী হতে দেয়া যাবেনা, ভয়ে রাখতে হবে।

ট্রাম্পঃ আমি চাই সব অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের তাদের দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হোক।
সিআইএঃ ওরা চলে গেলে আপনার ওয়াল কে বানাবে, স্যার? এতো কম মুল্যের শ্রমিক আর পাবেন কোথায়?

ট্রাম্পঃ তাহলে H1B ভিসাধারিদের অবৈধ করা হোক।
সিআইএঃ স্যার, সম্ভব না।
ট্র্যাম্পঃ কেন? কেন? কেন?
সিআইএঃ তাহলে আমাদের হোয়াইট হাউজের কাজগুলো পর্যন্তও ইন্ডিয়া থেকে কম মুল্যে আউটসোর্স করতে হবে।

ট্র্যাম্পঃ তাহলে আমি প্রেসিন্ডেন্ট হইলাম কি বালটা ফেলাইতে?
সিআইএঃ এঞ্জয় করুন স্যার, হোয়াইট হাউজ এঞ্জয় করুন। বাকিটা আমরা দেখতেছি।

Sunday, November 06, 2016

ফিস্টুলা বা ভগন্দর

ফিস্টুলাকে বাংলায় ভগন্দর বলা হলেও এর সহজ বাংলা হল নালি। মলদ্বারের ভেতরের সঙ্গে বাইরের নালি তৈরি হওয়াকে বলা হয় ফিস্টুলা। এটি অতি প্রাচীন রোগ।

২০০০ বছর আগের বই-পুস্তকেও ফিস্টুলা সম্পর্কে আলোচনা পাওয়া গেছে। সাধারণত মলদ্বারের পাশের গ্রন্থি (Anal gland) বন্ধ ও সংক্রমিত হয়ে বিষফোঁড়া হয় এবং বিষফোঁড়া ফেটে গিয়ে নালি তৈরি করে। মলদ্বারে বিষফোঁড়া হওয়া রোগীদের শতকরা ৫০ ভাগ রোগীর ফিস্টুলা হয়। অনেক সময় ফিস্টুলা এবং বিষফোঁড়া একই সঙ্গে প্রকাশ পায়।

এছাড়া মলদ্বারের যক্ষা, বৃহদন্ত্রের প্রদাহ এবং মলদ্বারের ক্যান্সার থেকে ফিস্টুলা হয়। শিশুদের সাধারণত ফিস্টুলা হয় না। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক লাখ লোকের মধ্যে আট থেকে নয় জন ফিস্টুলা রোগে আক্রান্ত।

মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা (প্রায় দ্বিগুন) বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন।

রোগীর ব্যথা, মলদ্বারের পাশে ফোলা এবং নিজে থেকে ফেটে গিয়ে পুঁজ-পানি ঝরা কিংবা বিষফোঁড়ার জন্যে আগের অপারেশনের ইতিহাস নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। পুঁজ-পানি পড়লে ব্যথা কমে যায় এবং রোগী আরাম বোধ করেন এবং কিছুদিনের জন্যে রোগী ভালো হয়ে যান। রোগটি দুতিন মাস সুপ্ত থেকে আবার দেখা যায়।

সুপ্তাবস্থায় রোগী ভাবেন যে তিনি ভালো হয়ে গিয়েছে, ফলে চিকিৎসকের কাছে আসেন না। অনেক রোগী দেখা যায় ব্যথার সময় এলাকার ফার্মেসী থেকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং ব্যথার ওষুধ কিনে খান। ব্যথা ভালো হলে ভুলে যান। এভাবে চক্রাকারে বছরের পর বছর চলতে থাকে। অনেকে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নেন। জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে আসেন।

ফিস্টুলা যেহেতু একটি নালি তাই এর দুইটি মুখ থাকে। একটি মলদ্বারের ভেতরে একটি বাহিরে। নালিটির গতিপথের উপর ভিত্তি করে আমেরিকান গ্যাস্ট্রএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ফিস্টুলাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে।

সরল ফিস্টুলা: যে সকল ফিস্টুলার মুখ মলদ্বারের অল্প ভেতরে তাকে সহজ ফিস্টুলা বলে। এক্ষেত্রে মলদ্বারের মাংসপেশি অল্প সম্পৃক্ত হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারেই হয় নয়া।

জটিল ফিস্টুলা: যে সকল ফিস্টুলার মুখ মলদ্বারের গভীরে, কিংবা ফিস্টুলার শাখা-প্রশাখা রয়েছে অথবা ফিস্টুলার সঙ্গে অন্যান্য অঙ্গের (যেমন - মুত্রথলি, যোনিপথ) সংযোগ রয়েছে তাকে জটিল ফিস্টুলা বলে।

জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে মলদ্বারের মাংসপেশি বেশি পরিমাণে সম্পৃক্ত হয়। অপারেশনের পর পুনরায় হওয়া ফিস্টুলা, মলদ্বারের যক্ষা, বৃহদন্ত্রের প্রদাহ এবং মলদ্বারের ক্যান্সার থেকে হওয়া ফিস্টুলা সাধারনত জটিল ফিস্টুলা হয়ে থাকে। অনেক সময় এ ধরনের ফিস্টুলার ক্ষেত্রে বাইরে একাধিক মুখ থাকতে পারে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীর সমস্যা শুনে, মলদ্বার দেখে ও মলদ্বারে আঙুল দ্বারা পরীক্ষা করে ফিস্টুলা রোগটি নির্ণয় করা যায়। মলদ্বারের যক্ষা, বৃহদন্ত্রের প্রদাহ এবং মলদ্বারের ক্যান্সার থেকে ফিস্টুলা এসব সন্দেহ করলে চিকিৎসকরা কোলনোস্কপি করে থাকেন। এছাড়া জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে এমআরআই, মলদ্বারের ভেতরের আল্ট্রাসনোগ্রাফি ইত্যাদি পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়।

ফিস্টুলা এমন একটি রোগ যার অপারেশন ভিন্ন অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। প্রকৃতিগত ভাবেই মানুষ অপারেশন ভয় পায়। আর এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে কিছু ‘অসাধু’ রোগীদের প্রতারিত করে থাকে। তাদের অপচিকিৎসা রোগটির জটিলতা বৃদ্ধি করে।

হিপক্রেটিস (আনুমানিক ৪৩০ খৃস্টপূর্ব) সর্বপ্রথম ফিস্টুলার সার্জিক্যাল চিকিৎসা করেন বলে বইপত্রে উল্ল্যেখ পাওয়া যায়। ১৯ শতকের শেষ থেকে ২০ শতকের শুরুর দিকে গুডসেল, মাইলস, মিলিগ্যান এবং মরগ্যান, থম্পসন প্রমুখ সার্জনগন ফিস্টুলা চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৯৭৬ সালে পার্কস ফিস্টুলার যে শ্রেণিবিভাগ করেন সেটি এখনও সর্বজনবিদিত। পরে ফিস্টুলা চিকিৎসায় বহু পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে কোনটি শ্রেষ্ঠ বা যথাযথ সে বিষয়ে চিকিৎসকরা এখনও ঐক্যমতে আসতে পারেননি। 

বর্তমানে ফিস্টুলা চিকিৎসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত অপারেশন পদ্ধতিগুলো হচ্ছে-

* ফিস্টুলোটোমি। * ফিস্টুলেকটোমি। * সিটন পদ্ধতি। * ফিস্টুলা প্লাগ। * ফিস্টুলা গ্লু। * ফ্ল্যাপ ব্যবহার। * রেডিওফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার। * লেজার ব্যবহার। * স্টেম সেল ব্যবহার। * মলদ্বারের মাংসপেশির মাঝখানের নালি বন্ধ করে দেওয়া। * এন্ডোস্কোপিক ফিস্টুলা সার্জারি।

এগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি বহূল ব্যবহৃত। বাকিগুলো বিশেষ ক্ষেত্রে কিংবা অতি জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। পদ্ধতি যাই হোক না কেনো ফিস্টুলার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয় যেমন- সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, ফিস্টুলা নালিটি বন্ধ করা এবং মল ধরে রাখার ক্ষমতা বজায় রাখা।

ফিস্টুলা চিকিৎসার অন্যতম দিক হল অপারেশনের পর ফিস্টুলা পুনরাবৃত্তি না হওয়া এবং মল ধরে রাখার ক্ষমতা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা।

সাধারণত কোমরের নিচ থেকে অবশ করে অপারেশন করা হয়। একদু দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। ফিস্টুলা অপারেশনের পর ঘা শুকাতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে সিটন পদ্ধতিতে দুতিন ধাপে অপারেশন করা হয়। প্রতিটি ধাপের মাঝে সাত থেকে ১০ দিন বিরতি দেওয়া হয়। এই সময় নিয়মিত ড্রেসিং করা প্রয়োজন। ড্রেসিং অপারেশনের পর পুনরায় ফিস্টুলা হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।

একথা সত্য যে ফিস্টুলা অপারেশনের পর আবার হতে পারে। বিশ্বব্যাপী বিশেষজ্ঞদের মতে অপারেশনের পর ফিস্টুলা পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা তিন থেকে সাত ভাগ। জটিল ফিস্টুলার ক্ষেত্রে এটি শতকরা ৪০ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। তবে এক কথায় জবাব দেওয়া সম্ভব নয় ফিস্টুলা অপারেশনের পর পুনরায় হবে কিনা। ফিস্টুলার ধরন, সার্জনের অভিজ্ঞতা এবং অপারেশনের পরের যত্নের উপর ফিস্টুলা অপারেশনের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে।

পরিশেষে বলা যায় যে, ফিস্টুলা রোগটির চিকিৎসা সম্ভব এবং সঠিক চিকিৎসায় ফিস্টুলা ভালো হয়। রোগ নিয়ে লজ্জা না পেয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করুন, সুস্থ থাকুন।

Saturday, October 22, 2016

তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদ

ইসলাম একটি প্রাকৃতিক ধর্ম। অতএব ইসলামের বিবেচনায় এ বিষয়টি রয়েছে যে স্বামী স্ত্রীর মাঝে কখনো মীমাংসা-অযোগ্য দুরত্বের সৃষ্টি হতে পারে। এরূপ হলে ইসলাম তাদেরকে তালাকের মাধ্যমে বিয়ের পরিসমাপ্তি ঘটানোর অনুমতি দেয়। যদিও অন্যান্য সমাজ ও ধর্মে এই বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমোদন রয়েছে। তবে ইসলামে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের পন্থা খুব স্বতন্ত্র। তা খুব মানবিক ও স্বাভাবিক পন্থায় সমস্যার সমাধান দেয়। প্রথমত, এটি স্বামী ও স্ত্রীকে তাদের বিয়ে টিকিয়ে রাখার জন্য বহু সুযোগ সুবিধা প্রদান করে। দ্বিতীয়ত, যদি তালাক অপ্রত্যাখ্যানযোগ্য হয় তবে তা স্বামী ও স্ত্রী উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা প্রদান করে।

কোরান মাজিদের নির্দেশনা
আর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যাণ রাখবেন। (আন-নিসা, ৪:১৯)

প্রত্যেক পুরুষেরই কিছু মানবিক দুর্বলতা রয়েছে। নারীর ক্ষেত্রেও তা সমান সত্য। এই আয়াত আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, যদি একজন স্বামী তার স্ত্রীর মধ্যে কিছু দুর্বলতা অপছন্দ করে তবে তার নিজের দুর্বলতাগুলির দিকে তাকানো উচিত। এতদসংক্রান্ত কিছু আয়াত ও হাদিস ইতোপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। এসব কিছুই আমাদেরকে আমাদের স্ত্রীদের সাথে ভালবাসা ও হৃদ্যতার সাথে বাস করার এবং তাদের মানবিক দুর্বলতাসমূহকে গ্রহণ করে নেয়ার শিক্ষা দেয়। যদি স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দুরত্ব খুব বেশি হয়, কোরান মাজিদ আমাদেরকে চুড়ান্ত তালাক প্রদানের পূর্বে সালিশ নিয়োগের মাধ্যমে তা সুরাহা করার উদ্যোগ নিতে আদেশ প্রদান করেছে।

আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশংকা কর তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন বিচারক এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক পাঠাও। যদি তারা মীমাংসা চায় তাহলে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে মিল করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সম্যক অবগত।

পারিবারিক অসঙ্গতি নিরসনের জন্য ইসলাম পুরুষের মত নারীদেরকেও সমান অধিকার প্রদান করে। তাদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণে সালিশ নিয়োগের ক্ষেত্রে উভয়ের সমান অধিকার রয়েছে। ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, এই সালিশ বা মধ্যস্ততাকারী নিয়োগ নারীদের ঋতুচক্র শেষ হওয়ার পর করতে হবে। যদি স্ত্রীর ঋতুচক্র চলাকালীন সময়ে দুরত্ব সৃষ্টি হয় তবে উভয়কে তার চক্র শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তা উভয়ের মধ্যে স্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার একটি অবকাশ প্রদান করে এবং প্রায় ক্ষেত্রেই তাদের একজন নিজের ভুল বুঝতে পারে। এতে করে নিজে নিজেই উভয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা সৃষ্টি হয়।

যদি উভয়ের মধ্যে দুরত্ব বাড়তে থাকে কিংবা স্বামী নরম না হয়, তবে কোরান মাজিদ তালাকের একটি দীর্ঘমেয়াদী কার্যপ্রণালী অনুসরণের নির্দেশনা দেয়। তা এটি নিশ্চিত করার জন্যে যে, যাতে স্বামী অসুবিধায় পড়ে কিংবা রাগান্বিত অবস্থায় তালাক প্রদানের পথ বেছে না নেয়।

হে নবি! (বল), তোমরা যখন স্ত্রীদেরকে তালাক দেবে তখন তাদের ইদ্দত অনুসারে তাদের তালাক দাও এবং ইদ্দত হিসাব করে রাখবে এবং তোমাদের রব আল্লাহকে ভয় করবে। (আত-তালাক, ৬৫:১)

এই আয়াত থেকে একথাটি পরিষ্কার হয় যে, তালাক কেবল নির্দেশিত সময়ের পরেই প্রদান করা যেতে পারে। অন্য কথায়, স্ত্রীকে তালাক প্রদানের পূর্বে স্বামীকে অপেক্ষা ও শান্ত হওয়ার জন্যে একটি সংক্ষিপ্ত সময় পার করতে হবে। কোরান মাজিদ অপেক্ষার এই সময়কে খুব পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করে- আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন কুরূ (ঋতুচক্র কাল) পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবে। (আল বাকারা, ২:২২৮)

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুবর্তী হওয়ার কাল অতিক্রম করে গেছে, তাদের ইদ্দত সম্পর্কে তোমরা যদি সংশয়ে থাক এবং যারা এখনো ঋতুর বয়সে পৌঁছেনি তাদের ইদ্দতকালও হবে তিন মাস। আর গর্ভধারিনীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য তার কাজকে সহজ করে দেন। (আত-তালাক, ৬৫:৪)

সকল ইমাম এ বিষয়ে একমত যে, স্ত্রীর ঋতুচক্র চলাকালীন সময়ে তালাকের ঘোষণা দেয়া যাবে না। স্ত্রী পবিত্র হওয়া পর্যন্ত স্বামীকে অপেক্ষা করতে হবে। স্ত্রী পবিত্র হওয়ার পর স্বা, যখন সে তাকে তালাক দিতে পারবে। সে তখন তালাকের ঘোষণা দিতে পারে। এখন তাকে অবশ্যই স্ত্রীর সাথে তিনিটি মাসিক ঋতুচক্র শেষ হওয়া পর্যন্ত যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে। আর এই সময়কালে উভয়েই একই ঘরে বসবাস করা আবশ্যক। ইসলাম এভাবে তালাকের প্রক্রিয়াকে একটি দীর্ঘমেয়াদী, শ্লথ ও মানবিক রূপদান করেছে। এমনটি সম্ভব যে, যখন স্ত্রী একটি কিংবা দুটি ঋতুচক্র পার করবে স্বামী তার প্রতি নরম হবে এবং তার সাথে যৌন সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে। এটি উভয়ের মাঝে একটি স্বয়ংক্রিয় সমঝোতা নিয়ে আসবে এবং তাদের বিয়েকে রক্ষা করবে। অধিকন্তু, যদি স্বামী এই ঋতুচক্রকালীন সময়ের মধ্যে যে কোন সময় স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চায় তবে সে ফিরিয়ে নিতে পারবে। যদি একবার তিন চক্র শেষ হয়ে যায় তবে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পূর্ণ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে এবং একজন আরেক জনের সাথে বাস করতে পারবে না। এর পরে যদি সে স্ত্রীকে পুনরায় ফিরিয়ে নিতে চায় তবে তাকে নতুনভাবে আকদে নিকাহ করতে হবে। কোরান মাজিদ দুই বারে তালাক দেয়ার সুযোগ প্রদান করে, তৃতীয়টি হবে চুড়ান্ত তালাক।

তালাক দুবার। অতঃপর বিধি মোতাবেক রেখে দেবে অথবা সুন্দরভাবে ছেড়ে দেবে। (আল বাকারা, ২:২২৯)

যদি স্বামী তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেয় তবে সে তাকে পুনরায় বিয়ে করতে পারে না। স্বামী তার এই বিগতা স্ত্রীকে বিয়ে করার একমাত্র উপায় হল যে, এই নারী অন্য কোন পুরুষের সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হবে এবং এই দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তালাক প্রদান করবে। তখনই কেবল পূর্বের স্বামী তাকে বিয়ে করতে পারবে। এধরনের পরিস্থিতি নিতান্তই দুর্লভ। এভাবে ইসলাম তালাক প্রদানকে জীবনের একটি গুরুতর বিষয়ে পরিণত করেছে। তা একজন স্বামীকে তার স্ত্রীর সাথে সমঝোতা করার সকল সম্ভাব্য সুবিধা প্রদান করে। তা তার মেজাজ শীতল করার এবং একটি যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নেয়ার পর্যাপ্ত সময়ও প্রদান করে। একজন স্বামীকে তালাকের গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্ণরূপে সচেতন থাকতে হবে। যদি কোন ব্যক্তি তালাক প্রদানের জন্যে চরমভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তবে তাকে সঠিক ও বৈধ তালাক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য একজন বিজ্ঞ মুফতির সহযোগিতা গ্রহণ করতে হবে।

নারীদের অধিকার আরও বেশি সুনিশ্চিত করার জন্যে কোরান মাজিদ বলে যে, তালাকের শব্দ কমপক্ষে দুজন স্বাক্ষীর সামনে উচ্চারণ করতে হবে।

অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দতের শেষ সীমায় পৌঁছবে, তখন তোমরা তাদের ন্যায়ানুগ পন্থায় রেখে দেবে অথবা ন্যায়ানুগ পন্থায় তাদের পরিত্যাগ করবে এবং তোমাদের মধ্য থেকে ন্যায়পরায়ন দুজনকে স্বাক্ষী বানাবে। (তালাক, ৬৫:২)

কোরান মাজিদ আমাদেরকে আরও শিক্ষা দেয় যে, তিক্ততা, ক্রোধ ও বিদ্বেষের মধ্যে তালাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিৎ নয়। যা বর্তমানে পশ্চিমা সমাজে খুবই সাধারণ ব্যাপার।

উপরোল্লেখিত আয়াতটি খুব পরিষ্কারভাবে বর্ণনা দেয় যে, স্বামীদের উচিৎ তাদের স্ত্রীদেরকে কৃপা ও অনুগ্রহ সহকারে যেতে দেওয়া। অন্য আয়াতে এই নির্দেশনাটি পূণর্ব্যক্ত হয়েছে:

আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিবে অতঃপর তারা তাদের ইদ্দতে পৌঁছবে তখন তোমরা তাদেরকে বাধা দিয়ো না যে, তারা তাদের স্বামীদেরকে বিয়ে করবে যদি তারা পরস্পরে তাদের মধ্যে বিধি মোতাবেক সম্মত হয়। এ উপদেশ তাকে দেয়া হচ্ছে, যে তোমাদের মধ্যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস রাখে। এটি তোমাদের জন্য অধিক শুদ্ধ ও অধিক পবিত্র। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না। ( )

কোরান মাজিদ আরও একধাপ অগ্রসর হয়ে বলে যে, স্বামীরা সেসব সম্পদ স্ত্রীদের কাছ থেকে ফিরিয়ে নিতে পারবে না। যা তারা তাদের স্ত্রীদেরকে প্রদান করেছিল। এই কাজকে হারাম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে:

আর তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ, তা থেকে কিছু নিয়ে নেবে। তবে উভয়ে যদি আশঙ্কা করে যে, আল্লাহর সীমারেখায় তারা অবস্থান করতে পারবে না। (আল বাকারা, ২:২৩৫)

হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য হালাল নয় যে, তোমরা জোর করে নারীদের ওয়ারিস হবে। আর তোমরা তাদেরকে আবদ্ধ করে রেখো না, তাদেরকে যা দিয়েছ তা থেকে কিছু নিয়ে নেয়ার জন্য, তবে যদি তারা প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। আর তোমরা তাদের সাথে সৎভাবে বসবাস কর। আর যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে এমনও হতে পারে যে, তোমরা কোন কিছুকে অপছন্দ করছ আর আল্লাহ তাতে অনেক কল্যান রাখবেন। (নিসা, ৪:১৯)

মূল : ড. মাজহার ইউ কাজি
বাংলা অনুবাদ : মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুজহিরি
সম্পাদনা : ড. মাওলানা শামসুল হক সিদ্দিক

Friday, September 30, 2016

দুঃখ বিলাস

মন খারাপের বারন্দায় বসে
এই হটাৎ এমন কেন কিসে
কেন পাই না খুঁজে তার দেখা
ছিল কি দেখা হওয়ার কথা

তবে কেন মনে দুঃখ বিলাস
আসে কেন বড় বড় দীর্ঘশ্বাস
পাইনা ভেবে ছন্নছাড়া ছল
মিছেই হচ্ছি ভেবে নাকাল

অতিত অতিত খেলি নিজে
মনের সাথে মনে ছল চাতুরী
পাওনা দেনা এতোই বুঝি
বুঝিনা নিজের গড়া আতুরি

দিন গেল যে দিনের পরে
মিছে মিছি অলিক ধরে
সামনে চলি সামলে জেগে
ভবের বেলা শেষের আগে

Saturday, August 13, 2016

বিরহ

থাকো না আর কিছুক্ষন
ভালবেসে আবেশে মন
যেন হারায় হারায় প্রতিখন
শুধুই হারতে চায় এই মন

দ্রুত লয়ে কেন যে বয়ে যায়
অধরা জড়ানো মোড়ানো ক্ষন
তুমি কি শুনছো রিনিকিঝিনি
সেই ঝিলমিল করা অনুরণন

চোখ বোজা আর খুলে থাকা
আর কি যায় কিছু দেখা
বিরহে পোড়াও তুমি শুধু
নিজে কি পোড়ো না বধু

Sunday, August 07, 2016

Sharaab or Khuda

These three poets are legendary in  Urdu literature as also their following couplets.

The poets Ghalib(1797-1869), Iqbal(1877-1938) and Faraz(1931-2008) present their views on the universality of God in the couplets.

It was not a feud. At best you can call it a poetic difference of opinion by intellectual and witty minds, spread across centuries.

Ghalib started it: In the 19th century , it was a bold statement. But then Ghalib was never known for meekness or following the crowd.

“Zahid, sharaab peene de masjid mein baith kar
Ya wo jagah bataa, jahaan Khuda nahin”

[Let me drink in a mosque; or tell me the place where there is no God.']

Allama Iqbal was not convinced and decided to reply about half a century later. So in the late 19th-early 20th  century, his poetic reply to Ghalib

“Masjid Khuda ka ghar hai, peene ki jagah nahin
Kaafir ke dil mein jaa, wahaan khuda nahin”

Mosque is the abode of God, not a place to drink. Go to the heart of a non
-believer because there God is not.

Faraz had the last word. (Later half of 19th century) .

“Kaafir ke dil se aaya hun, main ye dekh kar Faraz,
Khuda maujood hai wahaan, par usey pata nahin”

[I have returned from the heart of the disbeliever and i have observed : God is present in his heart too, but he just doesn’t know it. (he is ignorant/sleeping)