Friday, April 12, 2019

হুজুরের সব কথা: ফাঁস করে দেবার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী

==================
কওমী এক ভাই, আলীয়া কে দুষে বলছেন, যে আলীয়ায় সত্যিকারের ইসলাম চর্চা হয়না, তাই নুসরাতের এই ঘটনা। এর বিপরীতের কথা।
=========

ঘটনাটা ২০০৪-৫-৬ সালের হবে। ফেসবুক ছিলনা। কামরাঙ্গীরচর বা গওহরডাঙ্গা বা এরকম কোন এলাকার এক মহিলা কওমী মাদ্রাসার ঘটনা।
মাদ্রাসার বড় হুজুর মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা খুলেন। তো, তিনি ওই মাদ্রাসায় তারই শ্যালককে একজন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন।

ওই মাদ্রাসায় এক গরীবের সুন্দরী মেয়ে পড়তো। তো তার শ্যালক ওই মেয়ের পিছনে লাগে। তার সাথে ল_র প_র করতে চায়, কিন্তু মেয়ে দেয়না। বিয়ের প্রস্তাবও মনে হয় ফিরিয়ে দিছে।

তো, মেয়ের বাবা হুজুরকে এসে অভিযোগ করেন। বড় হুজুর প্রথমে একটু গুরুত্ব দিলেও, পরে উনি এটা ধামাচাপা দিয়ে দেন। কিছুদিন পরে আবারও যেই লাউ সেই কদু। শ্যালক ক্লাস নিতেছে, আর শ্যালকের কাছে ক্লাস করতেছে সেই মাদ্রাসা ছাত্রী। কিয়েক্টাবস্থা চিন্তা করেন তো।

তো, শ্যালক ভাই এক সময় ধৈর্যহারা হয়ে পড়েন। যেহেতু ছাত্রী ওই মাদ্রাসাতেই আবাসিক থাকতেন, তিনি একদিন রাতে ছাত্রী স্থাপনায় ঢুকে যান। ওই মেয়ের ঘরেও ঢুকে যান, এবং সেখানে তাকে ধ_ণ করেন। তারপর গলায় ওড়না/রশি পেঁচিয়ে তাকে হত্যাও করেন।

এরপর মামলা হয়, বিচার হয়েছে কিনা আর আপডেট জানিনা। বড় হুজুরের অবস্থান হল "আঁই কি বুইজছিনি এমন হইবো দেন?"।

এরপরও যেই লাউ সেই কদু, আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা চলতেছে। আজ এই ঘটনা, কাল সেই ঘটনা। কোন পরিবর্তন নাই।

এই ঘটনার পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছিল। তবে গরীবের মেয়ে হওয়ায় , আর বড় হুজুর রা ধামাচাপা নীতিতে বিশ্বাসী হওয়ায় গরীব বাবা আর তেমন কিছু হয়তো করতে পারেন নি। এ ধরনের ঘটনায়, না হুজুর রা হেল্প করে, না সেক্যুলার রা হেল্প করে।

------
কাজেই কওমী মাদ্রাসায় সব সাধু সন্ন্যাসী বাস করেন, আর আলীয়া খুব খ্রাপ , ব্যাপারটা এমন না।

তবে সংখ্যানুপাতে কওমী মাদ্রাসায় সত্যিকারের দ্বীনদার, তাকওয়াবান মানুষের সংখ্যা অনেক বেশী। আলীয়া তে কম।
----------
তবে দুই মাদ্রাসাতেও ঝুঁকি আছে। স্পেশালী আবাসিক মানে এসব হবার সম্ভাবনা যথেষ্ঠ।
-----------
একটা প্রশ্ন করি, আবাসিকে মহিলা মাদ্রাসা করা কিভাবে জায়েজ হয়? তার মাহরাম তার থেকে ১০ মাইল দূরে, আর মাথা গরম হুজুর মাত্র কয়েকশ ফিট দূরে? কোন নিরাপত্তা নাই? কিভাবে জায়েজ?
আমার অবশ্য ইলম নাই।

আবাসিক করার দরকার টা কি? রসূল(স) কি সাহাবীদের সাথে রাতে থেকে দ্বীন শিক্ষা দিতেন? স্কুল কলেজে ছেলেপেলে পড়তেছেনা? তাও আবার মহিলা মাদ্রাসা? তাও আবার আপনারা জানেন, আপনাদের একটা অংশ সমকামিতা লিপ্ত, তো যে সমকামিতা করতে পারে, সে কেন এই পাপ করতে পারবেনা?

তবে, কওমীতে নারী নির্যাতনের চেয়ে ছাত্র বলা_কার বেশী। ছাত্র মৃত্যু বেশী। 
-----------

তাহলে চিন্তা করেন, রাতে যেই হুজুর আপনাকে বলা_কার করতেছে, সকালে তিনি আপনাকে কুরআন মুখস্থ করাইতেছে।
যে আপনাকে দিনের পর দিন ধ_ণ , করতেছে, সেই আপনাকে ফিকহ শিখাচ্ছে। এই ফিকহ শিখে কি হবে? ছেলে মেয়েদের ভিতরের ফিলিংসটা কি হচ্ছে?

মার ধর বাদ দিলাম যান।

হুজুর যদি এসব করে ধরা পড়ে, শাস্তি কি? শাস্তি হল এক মাদ্রাসা থেকে চাকরিচ্যুত, আরেক মাদ্রাসায় যোগ। অথবা কোন মসজিদ মাদ্রাসায় খতীব - ইমাম - মুয়াজ্জীন পদে নিয়োগ। কার পিছনে নামাজ পড়ছি আমরা?

অথচ শাতিমির রসূল(স) এর যেই শাস্তি এটারও একই শাস্তি। শাতিমির রসূল(স) কে শাস্তি দেবার জন্য আপনারা আন্দোলন করতে পারেন, কিন্তু এই পাপের জন্য শাস্তির দেবার আন্দোলন করতে পারেন না? দুই একটা কে ধরে আপনারা কিছু করতে পারেন না? তাহলে বাংলাদেশ সেক্যুলার সরকারকে বকেন কেন? সরকার তো পুলিশ-দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তকে ট্রান্সফার করে, আপনারাও কি হুজুরকে এক মাদ্রাসা থেকে অন্য মাদ্রাসায় ট্রান্সফার করতেছেন না?

সেখানে গিয়ে সে তো আবারও একই কাজ করবে, ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত।

-------
আমি জীবনে বহু হুজুরের সাথে মিশেছি, দেখেছি। তো একটা ঘটনা বলি।

তখন, এক মসজিদে নামাজ পড়তাম। মুয়াজ্জিন সাহেবের গলাটায় কোন সুর ছিলনা। কেমন জানি লাগতো। তার পিছে নামাজ পড়তেও কেমন লাগতো। ইমাম না থাকলে তো মুয়াজ্জিন ভাই পড়ায়!!!

তো যাই হোক, মসজিদে এক বুজুর্গ ছিলেন, তিনি বেশ ভাল দ্বীনি বয়ান করতেন। তো, একদিন বেশ নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর পেলাম, যে তিনি যিনায় লিপ্ত। মসজিদের পাশে এক বাসায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে, আসতাগফিরুল্লাহ। শুক্রবারে ওই নাপাক দেহে মসজিদে ঢুকে গোসল করে তারপরই জুমা পড়েন। আসতাগফিরুল্লাহ। উনিই আবার জাতিকে বেশ ভাল বয়ান করে দ্বীনী গাসত করেন টরেন।

মসজিদের আশে পাশে আরও কে কে কিসে কিসে লিপ্ত তারও খবর পেলাম। তবে সবচে' শকিং নিউজ এগুলা না। শকিং নিউজ হইলো, এসব কাজে লিংক হিসেবে কাজ করেন, আমাদের মুয়াজ্জিন ভাই, এমনি উপরে উপরে তার বুজুর্গীর শেষ নাই। ।
মাটি ফাঁক হইতো, আর আমি ডাইরেক্ট নীচে চলে যেতাম এটাও বোধ হয় ভাল হতো, রাইট? গলাটায় সুর কেন নাই বুঝলাম।
-------

হুজুরের কাছে মেয়েকে কুরআন পড়তে দিলে পাশে বসে থাকতে হয়। না হলে মেয়ের এখানে ওখানে হাত দেয়। জিজ্ঞেস করেন, আপনার মা-বোন-স্ত্রী কে, অনেকে বলবে।

------

জেনারেল লাইনে কি অবস্থা? অবস্থা খারাপ। কিন্তু সব কনসেনশুয়াল। মানে যারা করে, স্বেচ্ছায় করে। জোর জবরদস্তি কম। শিক্ষক রা এসব করার সুযোগ কম পায়, কারণ আবাসিক না তো। আর উল্টাপাল্টা করলে একশন হয়। অনেকে নিজ চরিত্র রক্ষা করে চলে। ইচ্ছা করলে সম্ভব।

ডেটা ছাড়া তুলনা করাসম্ভব না।

========

পশ্চিমা বিশ্বকে নিয়া হাসতাম , চার্চের ঘটনা নিয়ে। চাইল্ড এন্ড নান এবিউস।
কিন্তু এখন?
আমি এটা ভেবে পাইনা, যে ইসলামে তো বিয়ের বিধান আছে। ওরা বিয়ে করতে পারেনা, তাই , মাথা গরম হলে ....।
কিন্তু আমাদের কি হইলো? আমি কোন এক্সপ্লেনেশন জানিনা।
=======

পশ্চিমা বিশ্ব যৌনা ব্যাপারে একদম... ইউ নো। কিন্তু এসব কনসেনশুয়াল। আপনি যদি নারী হয়ে বলেন, আমি নিজেকে স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে হেফাজত করে চলবো, কেউ আপনাকে কিছু করতে পারবেনা।

ইভেন টেনিউর ট্র্যাকড প্রফেসর এর ও চাকরি চলে যাবে, যদি সে কোন মেয়ের সাথে ল_রপ_র করতে চেষ্টা করে। এরপর জেল হবে, এরপর আর কোথাও চাকরি পাবেনা, কারণ তার নামে রিপোর্ট হবে। বাসা ভাড়া করতে পারবনা, গাড়ী কিনতে পারবেনা। পুরা জীবন শেষ। খালী একটা মেয়ের অভিযোগই যথেষ্ঠ, যদি প্রমাণ করতে পারে, বা আদালত মনে করে। ঘটনা ঘটলে ইউনিভার্সিটি ছাত্রীকে সমর্থন করে, মাস্টারকে না। পুরা উল্টা।

কেউ চাইল্ড এবিউস করলে, বড় অনুষ্ঠানের সময় তারে এসে পুলিশ পাহারা দেয়, ঘর থেকে বাহির হইতে দেয়না। কারণ সে ছোট বাচ্চা মেয়ের গায়ে হাত দেয়। আর এক বার রিপোর্ট হইলে, কোথাও চাকরি পায়না, ব্যবসা করতে পারেনা, বাসা ভাড়া পাইতে প্রবলেম হয়। জীবন শেষ করে দেয়।

এজন্য সবাই সাবধানে থাকে। উদাহরণ দিলাম এজন্য যে যাতে মানুষ বুঝে, যে ধামাচাপা না দিয়ে প্রকাশ করলে এসব বন্ধ হয়।

=====
পশ্চিমা বিশ্ব আমাদের মাকসাদ না। আমাদের মাকসাদ সুন্নাহ। রসূল(স) কি ধামাচাপা দিতেন? না প্রকাশ করতেন?

একবার এক কুরাইশ মহিলা চুরি করে ধরা পড়ে। রসূল(স) এর কাছে ধামাচাপা দেবার রিকুয়েনস্ট আসে। রসূল(স) রাগান্বিত হন। এরপর মহিলাকে তার কুরাইশ হাতখানা কেটে দেন। প্রকাশ্যে।

এক সাহাবী(রা) যিনায় লিপ্ত হয়ে যান। কিন্তু তিনি রসূল(স) এর কাছে সারেন্ডার করেন। তাকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এরকম একাধিক ঘটনা আছে।

রসূল(স) কি বলছেন, যে এসব প্রকাশ করোনা, প্রকাশ করলে ইসলামের বদনাম হবে, কাজেই ধামাচাপা দাও। ? বলেন নি।

বরং সুন্নাহ হল, প্রকাশ করা এবং বিচার করা, বিচার করতে না পারলে, তা করার চেষ্টা টুকু তো করা। ধামাচাপা না দেয়া।
=======

জাতির প্রতি সততর্কবানী: সব হুজুর ভাল না। অনেকেই জবরদস্তিরর মাধ্যমে হুজুর হয়েছে। ইসলাম তার অন্তর এ প্রবেশ করেনি। সে হুজুর এজন্য, যে সে এই সিস্টেমের মধ্যে থেকে বের হয়েছে। সে পারলে হুজুর হইতোনা। কিন্তু তার রুটি রুজির আর কোন উপায় নেই।

কিন্তু সে দাড়ি টুপি পরে এমন সং সেজে থাকে, যে দেখলে মনে হয় এনজেল।

কাজেই আপনার বাচ্চাকে কারও কাছে বা কোন প্রতিষ্ঠানের দেবার আগে সাবধান। ভালভাবে খোঁজ নিয়ে দিবেন। মেয়ে বাচ্চার ব্যাপারে খুবই সাবধান। আবাসিকে কখনও দিবেন না। পরামর্শ।

==========

আর ইসলামী মহলে, যে হাফিজ , আর যে মাওলানা, আর যে মুফতী , আর যে মুহাদ্দিস, সবাই কিন্তু একরকম দেখতে। সেটা মাথায় রাখতে হবে। যত উপরে যাবেন, শতকরা হিসেবে তত ভাল পাবেন। সবাই কিন্তু এক না।

কাজেই অন্ধভাবে সবাইকে বিশ্বাস করবেন না। বরং খোঁজ খবর নিয়েই চলতে হবে। দুনিয়াটা এরকমই।

=======

অনেকে আবার খুব দ্বীনদার পরহেযগার তাক্বওয়াবান আছে, অনেকে আবার না। হুজুর চিনার শর্টকাট উপায় দিলাম, হুজুর ফিল্টার:

হুজুর যদি সহীহ হয়, তাহলে সে:

১. খুব ধীরে সুস্থে নামাজ পড়বে, রুকু সিজদা ঠিকমতন করে কিনা দেখবেন, স্পেশালী: দুই সিজদার মাঝে বেশীক্ষণ থাকে কিনা, রুকু থেকে ঠিক মতন দাঁড়ায় কিনা, দাঁড়িয়ে থাকে কিনা কিছুক্ষণ?; আমাদের মুয়াজ্জিন ভাই, এই ক্রাইটেরিয়ায় ফেইল ছিল, আমি আগেই সন্দেহ করতাম।। অস্থির হয়ে নামাজ পড়লেই 'সমস্যা ' আছে, ইভেন বড় কিরাত করলেও। পিছন/পাশ থেকে দেখবেন।
২. সে তার অধীনস্থ দের সাথে ভাল-বিনয়ী ব্যবহার করবে, ঝাড়ি মেরে কথা বলবেনা।
৩. তার মধ্যে দ্বীনী ব্যাপারে মোটিভেশন থাকবে। সে দ্বীন নিয়ে চিন্তিত হবে। সিনসিয়ারিটি থাকবে, স্যাক্রিফাইস থাকবে। এটা অবশ্য ধরা কঠিন।

তবে ১ নং ফিল্টারেই সব আটকাই যায়। কঠিন ফিল্টার কিন্তু।

======

আকাবীরদের প্রতি আহবান : দয়া করে আপনাদের মাদ্রাসা, আপনারা বাাঁচান। নাহলে গত দেড়শ বছরের স্যাক্রিফাইস সব শেষ হয়ে যাবে।

যাজাকাল্লাহ।

=======
সর্বশেষ খবর : নগরীতে গলায় ফাাঁস দিয়ে মাদ্রাসা ছাত্রের আত্মহত্যা।
সন্দেহ: মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে না তো< এস ইউজুয়াল? ছেলেটা নাকি ফার্স্ট বয় ছিল।

Thursday, February 14, 2019

ভালোবাসি বৃষ্টিকে

আমি বর্ষাকে নয় বৃষ্টিকে ভালবাসি
বর্ষা চঞ্চল, উচ্ছল, সব কিছু বেশি বেশি
বৃষ্টি স্নিগ্ধ, মন বোঝে, সব উজাড় করে
আমার প্রতিটা স্তবক যেন তার কত চেনা

আমি বর্ষাকে নয়, বৃষ্টিকে ভালবাসি
বর্ষাতো আমার একার নয়, সে সবার
বৃষ্টি একান্তভাবেই আমার, শুধু আমার
আমি যেভাবে চাই সে সেভাবেই শুধু

আমি বর্ষাকে নয়, বৃষ্টিকে ভালবাসি
বর্ষা যেন অবারিত ফসলের মাঠ দিগন্তের
বৃষ্টি আমার সাজানো বাগান একন্তে মুগ্ধতার
যেখানে আমার পদচারণ একান্তই নিজের মত

আমি বর্ষাকে নয়, বৃষ্টিকে ভালবাসি
বর্ষা কখনো আমার, তার অথবা অন্যকারো
বৃষ্টি ছলনা জানেনা, শুধু আষ্টেপৃষ্টে ভালবাসা
এতো পাওয়ার পরও আমি কেন বর্ষাকে চাই

Monday, July 16, 2018

ব্যভিচার

তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। অবশ্যই এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। [সুরা : বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩২ (দ্বিতীয় পর্ব)]


তাফসির : আলোচ্য আয়াতে ব্যভিচারের কাছে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। অর্থাৎ যেসব উপকরণ ব্যভিচারে উদ্বুদ্ধ করে, সেসব উপকরণ থেকে দূরে থাকতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই একজন নারী ও একজন পুরুষের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয় দেখাদেখি থেকে। তাই ইসলামে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতি দৃষ্টি সংযত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে পরে তা গুনাহে প্ররোচিত করতে না পারে। ইসলামের এই নির্দেশনা মানুষের মানসিক সুস্থতা ও পরিশুদ্ধ সমাজ কাঠামো গঠনের জন্য দেওয়া হয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য নারী নির্যাতনের পথ রুদ্ধ করা। নারীরা যেন নিশ্চিন্তে, নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে সমাজে জীবন যাপন করতে পারে, ইসলাম সেদিকেই খেয়াল রেখেছে। তাই ব্যভিচারকে অশ্লীল ও নিকৃষ্ট কাজ ঘোষণার পাশাপাশি এর জন্য পার্থিব ও অপার্থিব শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিবাহিত ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে আমৃত্যু পাথর নিক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামী শরিয়তে ব্যভিচারী বিবাহিত হলে তার শাস্তি রজম বা পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড। আর অবিবাহিত ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীকে এক শ বেত্রাঘাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারীতাদের প্রত্যেককে এক শ কশাঘাত করবে...। (সুরা : নুর, আয়াত : ২)


তবে এ শাস্তি প্রয়োগ করবে ইসলামী রাষ্ট্রের সরকার ও প্রশাসন। অন্যদিকে কোনো কারণে এ শাস্তি আরোপিত না হলে দুনিয়ায়ই কোনো না কোনোভাবে এর শাস্তি এসে যেতে পারে। হাদিস শরিফে এসেছে, ব্যভিচারের মন্দ পরিণাম ছয়টি। তিনটি দুনিয়ায় আর তিনটি আখিরাতে। দুনিয়ার তিনটি হলো১. চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট হওয়া, ২. দরিদ্রতা, ৩. অকালমৃত্যু । আর আখিরাতের তিনটি হলো১. আল্লাহর অসন্তুষ্টি, ২. হিসাব-নিকাশের কঠোরতা ও ৩. জাহান্নামের কঠিন শাস্তি। (ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধ, ই.ফা. পৃ. ১০৯)


ব্যভিচারে অভ্যস্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে ঈমান ও আমল থেকে বঞ্চিত হতে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কোনো মানুষ যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং এটি তার মাথার ওপর মেঘখণ্ডের মতো ভাসতে থাকে। অতঃপর সে যখন তাওবা করে, তখন ঈমান আবার তার কাছে ফিরে আসে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৬৯০)


তিনি আরো ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ব্যভিচার করে বা শরাব পান করে, আল্লাহ তার ওপর থেকে ঈমান ছিনিয়ে নিয়ে যান, যেভাবে মানুষ মাথার দিক দিয়ে জামা খুলে নেয়। (মুস্তাদরাকে হাকিম : ১/২২)


দুনিয়ায় বিভিন্ন কারণে মানুষ পাপ করে পার পেয়ে যায়। পরকালে অবশ্যই এর শাস্তি ভোগ করতে হবে; এমনকি দুনিয়ায়ও যেকোনো সময় পাপী ব্যক্তি আল্লাহর আজাবে পতিত হতে পারে। ইরশাদ হয়েছে, যারা পাপাচারের ষড়যন্ত্র করে, তারা কি এ বিষয়ে নির্ভয় হয়ে গেছে যে আল্লাহ তাদের ভূগর্ভে বিলীন করবেন না অথবা এমন দিক থেকে আজাব আসবে না, যা তাদের ধারণাতীত? অথবা চলাফেরারত অবস্থায় তিনি তাদের পাকড়াও করবেন না? তারা তো তা ব্যর্থ করতে পারবে না। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪৫-৪৬)


Thursday, July 05, 2018

কুরআনের আলোকে নারী: সঠিক অবস্থান ও অভিযোগের জবাব

ইসলামে নারীদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বিশ্বব্যাপী এমনভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে যেন সবগুলো ধর্মের মধ্যে ইসলামেই নারীদেরকে সবচেয়ে বেশী অবমাননা করা হয়েছে এবং সবচেয়ে কম অধিকার দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই এই অপপ্রচারকে বিশ্বাসও করা শুরু করেছে। অথচ বাস্তবতা কিন্তু ঠিক তার বিপরীত। প্রকৃতপক্ষে, কোরআনে নারীদের নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করতে যাওয়া মানে তাদেরকে বরং হেয় করা। কেননা কোরআনে নারী-পুরুষকে তো আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়নি। যে দু-চারটি তুচ্ছ বিষয়কে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে সমালোচনা করা হয় সেগুলো বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুই না। সামান্য যৌক্তিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে সেগুলোকে খুব ভালো ভাবেই ডিফেন্ড করা সম্ভব। তাছাড়া কোরআনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন নারীকে বিশেষ মর্যাদা ও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে তেমনি আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের উপর অতিরিক্ত বোঝাও চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব, সবকিছু যোগ-বিয়োগ করে এবং নারী-পুরুষের মধ্যে যে প্রকৃতিগতভাবে কিছু পার্থক্য আছে সেটা বিবেচনায় রেখে কোরআনে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করা খুবই কঠিন। তবে কোরআনের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী হতে হবে। এক্ষেত্রে আবেগের কোনো স্থান নেই।

কোরআন হচ্ছে মানব জাতির ইতিহাসে প্রথম লিখিত গ্রন্থ যেটি নারী-পুরুষকে মানুষ হিসেবে সমান মর্যাদা দিয়ে নারীদের পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে। পুরুষ মানেই পুরুষের পক্ষে এবং নারীদের বিপক্ষে – হাজার বছরের এই ট্যাবু বা মানসিকতাকে কোরআনই প্রথম ভেঙ্গে দিয়েছে। নিচের আয়াতগুলোতে দেখুন তো কোরআনে নারী-পুরুষের মধ্যে আদৌ কোনো পার্থক্য করা হয়েছে কি-না।

“হে মানব-জাতি! তোমরা ভয় কর তোমাদের রবকে, যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের এক আত্মা থেকে এবং যিনি সৃষ্টি করেছেন তার থেকে তার জোড়া, আর ছড়িয়ে দিয়েছেন তাদের দু’জন থেকে অনেক নর ও নারী।” (আন-নিসা ৪:১)

“যে ব্যক্তি ভাল কাজ করবে, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী, এবং সে ঈমানদার হবে, এরূপ লোক জান্নাতে দাখিল হবে, আর তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিচার করা হবে না।” (আন-নিসা ৪:১২৪)

“আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্যে থেকে সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ কর এবং সৃষ্টি করেছেন তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও দয়া।” (আর-রূম ৩০:২১)

“আমি বিনষ্ট করি না তোমাদের কোন পরিশ্রমকারীর কর্ম, তা সে হোক পুরুষ কিংবা নারী। তোমরা একে অন্যের সমান।” (আল-ইমরান ৩:১৯৫)

“বিশ্বাসী পুরুষ ও বিশ্বাসী নারী একে অপরের বন্ধু। তারা ভাল কাজের নির্দেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, তারা সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আনুগত্য করে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের। এদেরই উপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করবেন।” (আত-তওবা ৯:৭১)

“তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।” (আল-বাকারা ২:১৮৭)

“হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে এবং তোমাদেরকে পরিণত করেছি বিভিন্ন জাতিতে ও বিভিন্ন গোত্রে, যাতে তোমরা পরস্পরকে চিনতে পার। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান সেই ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক মোত্তাকী।” (আল-হুজরাত ৪৯:১৩)

“যে ভাল কাজ করে এবং বিশ্বাসী, হোক সে পুরুষ কিংবা নারী, আমি তাকে অবশ্যই দান করব এক পবিত্র শান্তিময় জীবন এবং তারা যা করত তার জন্য তাদেরকে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার দান করব।” (আন-নাহল ১৬:৯৭)

“যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করে সে কেবল তদনুরূপ প্রতিফল পাবে। আর যে ব্যক্তি ভাল কাজ করে সে পুরুষই হোক কিংবা নারীই হোক, সে যদি বিশ্বাসী হয় তবে এরূপ লোকেরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে, সেথায় তাদেরকে দেয়া হবে বেহিসাব রিযিক।” (আল-গাফির ৪০:৪০)

“আমি মানুষকে তার মাতা-পিতা সম্বন্ধে নির্দেশ দিয়েছি তাদের সাথে সদাচরণ করতে। তার মাতা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভে ধারণ করেছে এবং দু’বছরে তার দুধ ছাড়ানো হয়। সুতরাং শোকরগুজারী কর আমার এবং তোমার মাতা-পিতার।” (লুকমান ৩১:১৪)

“নিশ্চয় মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনয়ী পুরুষ ও বিনয়ী নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোজাদার পুরুষ ও রোজাদার নারী, স্বীয় লজ্জাস্থান হেফাযতকারী পুরুষ ও স্বীয় লজ্জাস্থান হেফাযতকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও অধিক স্মরণকারী নারী–এদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও বিরাট প্রতিদান।” (আল-আহযাব ৩৩:৩৫)

“সেদিন আপনি দেখতে পাবেন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদেরকে যে, তাদের নূর ছুটাছুটি করছে তাদের সামনে ও তাদের ডানে। তাদেরকে বলা হবে: আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ এমন জান্নাতের, যার নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ, সেখানে তোমরা অনন্তকাল থাকবে। ইহাই মহা সাফল্য।” (আল-হাদীদ ৫৭:১২)

“পুরুষ যা অর্জন করে সেটা তার প্রাপ্য অংশ এবং নারী যা অর্জন করে সেটা তার প্রাপ্য অংশ।” (আন-নিসা ৪:৩২)

“পুরুষদের জন্য অংশ আছে সে সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়রা রেখে যায়; এবং নারীদের জন্যও অংশ আছে সে সম্পত্তিতে যা পিতা-মাতা ও নিকট-আত্মীয়রা রেখে যায়, হোক তা অল্প কিংবা বেশী। তা অকাট্য নির্ধারিত অংশ।” (আন-নিসা ৪:৭)

“হে যারা ঈমান এনেছ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় নারীদের জবরদস্তি উত্তরাধিকার গণ্য করা। আর তাদের আটকে রেখ না তাদের যা দিয়েছ তা থেকে কিছু আত্মসাৎ করতে, কিন্তু যদি তারা কোন প্রকাশ্য ব্যভিচার করে তবে তা ব্যতিক্রম। তোমরা তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করবে।” (আন-নিসা ৪:১৯)

“যারা কোন ভাল নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারপর চারজন সাক্ষী উপস্থিত করে না তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই প্রকৃত দুষ্ট ও মিথ্যাবাদী।” (আন-নূর ২৪:৪)

“এ কথা সত্য যে, নারীদের উপর পুরুষের যেমন কিছু অধিকার আছে তেমনি পুরুষের উপরও নারীদের কিছু অধিকার আছে।” (মুহাম্মদ সাঃ)

এগুলো ছাড়াও আরো কিছু আয়াত আছে। তবে বাস্তবতা দেখলেন তো! এই পৃথিবীর দ্বিতীয় কোনো গ্রন্থে নারী-পুরুষকে এতো বেশীবার পাশাপাশি সম্বোধন করা হয়নি এবং নারীদেরকে এভাবে সরাসরি মর্যাদা ও অধিকারও দেওয়া হয়নি।

এবার আসা যাক কোরআনে নারীদের বিরুদ্ধে বহুল প্রচলিত অভিযোগগুলো নিয়ে। তার আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, যেটা অনেকেই কৌশলে এড়িয়ে যায়, সেটা হচ্ছে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে সেভাবেই যদি ইসলামে নারীদেরকে দেখা হতো তাহলে তো পশ্চিমা বিশ্বের নারীরা ইসলামের দিকে ফিরেও তাকাত না। অথচ পশ্চিমা বিশ্বে ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশী!

অভিযোগ: কোরআনে যেহেতু একজন পুরুষের স্থলে দু’জন নারী সাক্ষীর কথা বলা আছে সেহেতু নারীর বুদ্ধিমত্তাকে পুরুষের চেয়ে কম মনে করা হয়েছে!

জবাব: প্রথমত, কোরআনের কোথাও বলা হয়নি যে পুরুষের চেয়ে নারীর বুদ্ধি কম। দ্বিতীয়ত, যে আয়াতের নামে এই অভিযোগ উত্থাপন করা হয় সেটি কোরআনের মধ্যে সবচেয়ে বড় আয়াতগুলোর একটি (২:২৮২)। অথচ পুরো আয়াত না পড়ে সামান্য একটি অংশ বারংবার উদ্ধৃত করে তোতা পাখির মতো বুলি আউড়ানো হয়। আয়াতটি পুরোটা পড়লে কারো মনেই এই ধরণের অস্বাভাবিক চিন্তা-ভাবনার উদয় হওয়ার কথা নয়। কোরআনে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ও একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে একজন পুরুষের স্থলে দু’জন নারী সাক্ষীর কথা বলা আছে, আর সেটি হচ্ছে ঋণ লেন-দেন। তবে তার মানে কিন্তু এই নয় যে, পুরুষের বুদ্ধিমত্তা নারীর বুদ্ধিমত্তার দ্বিগুন। অতিরিক্ত একজন নারীকে পাশে থাকতে বলা হয়েছে এ'কারণে যে, আসল সাক্ষী কোনো কারণে ভুল করলে অপরজন স্মরণ করিয়ে দেবে। এর পেছনে যুক্তি হচ্ছে কোরআনে যেহেতু পুরুষকে অর্থনৈতিক বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেহেতু ধরে নেওয়া হয়েছে যে, তারা এ বিষয়ে পারদর্শী হবে। একমাত্র ঋণ লেন-দেন ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সাক্ষী সমান। তাছাড়া নারীদের কিছু সমস্যা যেমন গর্ভাবস্থা ও রজঃস্রাবও তো মাথায় রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় ও রজঃস্রাবকালে নারীদের যে কিছু সমস্যা হয় সেটা তো প্রমাণিত সত্য, যে সমস্যাগুলো পুরুষদের নেই।

অভিযোগ: বোরখা-হিজাব হচ্ছে পশ্চাৎপদতা ও নির্যাতন-নিপীড়ন এর হাতিয়ার!

জবাব: আধুনিকতা বা সভ্যতার অর্থ যদি অর্ধ-উলঙ্গ হওয়া বুঝায় তাহলে তো আদিম যুগের মানুষ পুরোপুরি আধুনিক ও সভ্য ছিল। কারণ, তারা সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়াত। অথচ তাদেরকে 'অসভ্য' বলা হয়! রাস্তা-ঘাটের উলঙ্গ পাগলা-পাগলিকেও তো তাহলে পুরোপুরি আধুনিক ও সভ্য বলতে হয়। কিন্তু ইসলাম-বিরোধীদের কেউই সেটা মেনে নেবে না! পোশাক-পরিচ্ছদ হচ্ছে মানব সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি। মানুষ আর পশুর মধ্যে মৌলিক দুটি পার্থক্য হচ্ছে সত্য-মিথ্যা বা ভালো-মন্দ বিচারের ক্ষমতা এবং পোশাক-পরিচ্ছদ। এই দুটি মৌলিক পার্থক্য ছাড়া মানুষ আর পশুর মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই।

যাহোক, কোরআনে নিকাব-সহ প্রচলিত বোরখার কোনো ইঙ্গিত নেই (২৪:৩০-৩১, ৩৩:৫৯)। হিজাবের ক্ষেত্রে অবশ্য মুসলিম স্কলারদের মধ্যে দ্বিমত আছে। বেশীরভাগ স্কলার কোরআনের আলোকে হিজাবকে সমর্থন করেন। তবে কোরআনে নারীদের পোশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে কিছু স্বাধীনতা ও নমনীয়তা রাখা হয়েছে যেটা দেশ-কাল-পাত্র ভেদে কিছুটা পরিবর্তনশীল হতে পারে। মজার ব্যাপার হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের পুরুষ-সহ প্রায় সকল ইমাম-মৌলভি-মুন্সিরাও কিন্তু 'বোরখা-হিজাব' এর মতো পোশাক পরিধান করেন। অথচ তাদেরকে নির্যাতিত-নিপীড়িত বলা হয় না। এমনকি নারীদেরকে যে উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের পর্ণগ্র্যাফি ব্যবসা করা হচ্ছে – তার বিরুদ্ধেও টু-শব্দটি পর্যন্ত করা হয় না। গোঁড়া সমালোচকদের দৃষ্টি শুধুই মুসলিম নারীদের পোশাকের দিকে। পোশাক-পরিচ্ছদ হচ্ছে মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার। সেই ব্যক্তিগত পছন্দ যে কীভাবে মানুষকে নির্যাতিত-নিপীড়িত করতে পারে – তা কোনো ভাবেই মাথায় আসে না। যারা এমন উদ্ভট অপপ্রচার চালায় তাদের অসৎ কোনো উদ্দেশ্য আছে। শারীরিক গঠনের ভিন্নতার কারণে কোরআনে নারীদেরকে কিছুটা বেশী সতর্ক করা হয়েছে মাত্র। অন্যথায় নারী-পুরুষ উভয়কেই শালীন পোশাকের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারী-পুরুষ উভয়কেই সততা ও শালীনতা রক্ষার উপরই বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে (৭:২৬-২৮, ২:২৬৮, ১৭:৩২)। এ প্রসঙ্গে কোরআন আরো বলে: তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম (৭:২৬); তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোনো রকম সংকীর্ণতা আরোপ করেননি (২২:৭৮); দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই (২:২৫৬)।

অভিযোগ: কোরআনে স্ত্রীকে প্রহারের অধিকার স্বামীকে দেওয়া হয়েছে কিন্তু একই অধিকার স্ত্রীকে না দেওয়াতে নারী-পুরুষকে সমান মনে করা হয়নি!

জবাব: প্রথমত, এই ধরাধামে কোরআন আসার আগে থেকেই আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে পুরুষরা নারীদেরকে প্রহার করে আসছে। আর তা-ই যদি হয় তাহলে এটি একটি বিশ্বজনীন ফিনমিন্যান এবং কোরআনের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

দ্বিতীয়ত, বিষয়টি মোটেও সে'রকম কিছু নয় যেভাবে অপপ্রচার চালানো হয়। কোরআনের ৪:৩৪ আয়াতের সামান্য একটি অংশ উদ্ধৃত করে স্ত্রীকে প্রহার করার কথা লিখা আছে বলে অভিযোগ করা হয়। কিন্তু তারা যেমন পুরো আয়াতটা পড়ে না তেমনি আবার কোরআনে এ'রকম একটি কথা কেন লিখা আছে সে বিষয়ে ভেবেও দেখে না। কোনো কারণ ছাড়াই কাউকে প্রহার করার কথা লিখা থাকতে পারে না নিশ্চয়। আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সকল সমাজেই নারীদেরকে কম-বেশী প্রহার করা হয়। এই অতি কমন একটি ফিনমিন্যানকে কোরআনে একটি পজিটিভ থেরাপি হিসেবে ব্যবহার করে পরিবারের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সম্ভাব্য একটি সমাধান দেওয়া হয়েছে। তবে প্রহারকে শেষ থেরাপি হিসেবে রাখা হয়েছে। তার আগে দুই ধাপ থেরাপির কথা বলা হয়েছে। তার মানে প্রহারকে উৎসাহিত করা হয়নি নিশ্চয়। এই তিন ধাপ থেরাপিতে কাজ না হলে পরের আয়াতে চতুর্থ একটি সমাধান দেওয়া হয়েছে (৪:৩৫)। এই আয়াত পড়লে যেকেউ বুঝতে পারবেন যে, তার আগের আয়াতে আসলে গুরুতর সমস্যার কথাই বুঝানো হয়েছে। কোরআনের এই ধাপগুলো এতটাই স্বাভাবিক যে, আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে অনেকেই কিন্তু প্রয়োজনে ঠিকই প্রয়োগ করে। অথচ একই কথা কোরআনে লিখা থাকাতে তথাকথিত নারীবাদীদের চোখ নাকি লজ্জায় অন্ধ হয়ে যায়, যেন মায়ের চেয়ে মাসির দরদই বেশী!

তৃতীয়ত, কোরআনের এই আয়াতে যে অ্যারাবিক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সে অনুযায়ী ‘প্রহার’ ছাড়াও নাকি আরো কিছু অর্থ আছে। অনুবাদকরা যদি আগে থেকেই জানতেন যে, কিছু মাসি এই তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে মশা মারতে কামান দাগাবে তাহলে তারা হয়তো দেখে-শুনে সে'রকম একটি শব্দই বসিয়ে দিতেন। সেক্ষেত্রে কিন্তু কারো মুখ খোলারই সুযোগ থাকতো না। অনুবাদকদের দূর্ভাগ্যই বলতে হবে!

চতুর্থত, কোরআন যদি মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর নিজস্ব বাণী হতো এবং তাঁর যদি পুরুষের হাতে অসৎ স্ত্রীকে অচ্ছামতো পিটিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা থাকতো, যেভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাহলে ধাপে ধাপে এতো কিছু না বলে সরাসরি বেধরক প্রহার করার কথাই লিখা থাকতো। অতএব, কোরআন যে মুহাম্মদ (সাঃ)-এঁর নিজস্ব নিজস্ব বাণী হতে পারে না – তার স্বপক্ষে অসংখ্য যুক্তি-প্রমাণের মধ্যে এটিও একটি। কোরআন এমন একটি গ্রন্থ যার বিরুদ্ধে যেকোনো সমালোচনা বুমেরাং হতে বাধ্য।

অভিযোগ: কোরআনে যেহেতু নারীদের মাসিক রজঃস্রাবকে 'রোগ' ও অশুচি বলা হয়েছে সেহেতু কোরআন একটি অবৈজ্ঞানিক ধর্মগ্রন্থ!

জবাব: গোঁড়া সমালোচকরা কোরআনের ২:২২২ আয়াতের পিকথালের অনুবাদ থেকে ‘Illness’ শব্দের অর্থ ‘রোগ’ বানিয়ে দিয়ে কোরআনকে শুধু অবৈজ্ঞানিক বলেই ক্ষান্ত হয়নি, সেই সাথে আবল-তাবল অনেক কিছুই বলে। অথচ ‘Illness’ শব্দের অর্থ হচ্ছে অসুস্থতা, রোগ নয়! রোগ আর অসুস্থতা এক জিনিস নয়। মাসিক রজঃস্রাবকালে নারীরা একটু-আধটু অসুস্থতা অনুভব করতেই পারে। আর রজঃস্রাবকালে যেহেতু শরীর থেকে দুষিত পদার্থ বের হয় সেহেতু এই অবস্থাকে ‘অশুচি’ বলা হয়েছে। যার ফলে আয়াতটাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কথা এসেছে। পিকথালের অনুবাদে ‘Illness’ শব্দটা দেখেই 'রোগ' বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ তার পরে যে “পবিত্র বা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকট যাবে না” লিখা আছে সেটা দেখার আর প্রয়োজন বোধ করেনি। 'রোগ' আবার 'পরিষ্কার' করা যায় নাকি! পাগল-ছাগল কোথাকার!

অভিযোগ: কোরআনে স্ত্রীকে শষ্যক্ষেত্রের মতো অশ্লীল ও কুৎসিত জাতীয় জিনিসের সাথে তুলনা করে হেয় করা হয়েছে (২:২২৩)!

জবাব: এক্ষেত্রেও কোনো কোনো অনুবাদক ‘শষ্যক্ষেত্র’ শব্দটা ব্যবহারই করেননি। আবারো অনুবাদকদের দূর্ভাগ্য! আয়াতটাতে প্রকৃতপক্ষে কী বুঝাতে চাওয়া হয়েছে সেটা যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই বোঝার কথা। স্বামী-স্ত্রীকে একটি ন্যাচারাল সিস্টেমের সাথে তুলনা করা হয়েছে। এ'রকম একটি উপমাকে যারা অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে তাদের মন-মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। নাকি উপমাটা কোরআনে আছে বলে নোংরা হয়ে গেছে কিন্তু কোনো সাহিত্যের গ্রন্থে থাকলে সেটা হতো আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতা! আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সকলেই কিন্তু স্ত্রীকে ‘শষ্যক্ষেত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে ঠিকই ফসল (সন্তান) ফলাচ্ছে। অথচ কোরআনের ক্ষেত্রে কারো কারো যেন লজ্জার সীমা নেই। এই ন্যাচারাল সিস্টেমকে এড়াতে হলে অবাস্তবধর্মী তথা সাধু-সন্ন্যাসী জীবন যাপন ছাড়া অন্য কোনো পথ কিন্তু খোলা নেই। মজার ব্যাপার হচ্ছে কোরআনের ২:২২২ আয়াতে নারীদের মাসিক রজঃস্রাবকে ‘অসুস্থতা’ বা ‘অশুচি’ বলাতে এবং ২:২২৩ আয়াতে স্ত্রীকে শষ্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করাতে কিছু গোঁড়া সমালোচক যেখানে কোরআনকে ‘নারী-বিদ্বেষী' ও 'অবৈজ্ঞানিক’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে সেখানে প্রফেসর টিভিএন পারসাউড ও প্রফেসর কেইথ মূর এর মতো বিজ্ঞানীরা তারই মধ্যে আবার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছেন! কারো বিশ্বাস না হলে এই ভিডিওটা দেখা যেতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কাউকে শষ্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করলে তাকে হেয় করা হয় কী করে? শষ্যক্ষেত্র কি 'অশ্লীল' ও 'কুৎসিত' জাতীয় হেয়যোগ্য কিছু?

অভিযোগ: কোরআনে যেহেতু নারীকে পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তি দেওয়া হয়েছে সেহেতু নারী-পুরুষকে সমান অধিকার দেওয়া হয়নি!

জবাব: প্রথমত, কোরআনের আগে কোনো ধর্মগ্রন্থে নারী-পুরুষকে সমান-সমান সম্পত্তি দেওয়া তো দূরে থাক নারীকে আদৌ কোনো সম্পত্তিই দেওয়া হয়নি। এমনকি মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই নারীদেরকে পুরুষের অর্ধেক সম্পত্তিও দেয় না। এই যখন বাস্তবতা তখন ‘অর্ধাংশ’ নিয়ে হৈ-চৈ করার কোনো মানে হয় না। দ্বিতীয়ত, সার্বিকভাবে সবকিছু বিচার-বিবেচনা করে কোরআনে নারীকে কিছুটা কম সম্পত্তি দেওয়ার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে (৪:৭, ৪:১১-১২, ৪:৭৬)। যেমন:

– কোরআনে নারী-পুরুষ উভয়কেই রোজগারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে (৪:৩২) অথচ পরিবারের সকল প্রকার ভরণপোষণের দায়িত্ব শুধু পুরুষের ঘাড়েই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে (৪:৩৪)। অর্থাৎ একজন নারী যা রোজগার করবে সেটা তার নিজস্ব কিন্তু পুরুষের রোজগার থেকে সংসারের সকল প্রকার খরচ বহন করতে হবে। নারীকে কি এখানে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলো না? পরিবারের সকল প্রকার ভরণপোষণের ভার নারীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হলে গোঁড়া সমালোচকদের সারা জীবনের ঘুমই হয়তো হারাম হয়ে যেত!

– বিবাহ বিচ্ছেদের পরও নারীর ভরণপোষণের ভার পুরুষের উপর ন্যাস্ত করা হয়েছে (২:২৪১)। এমনকি বিধবাদের ভরণপোষণের কথাও বলা হয়েছে (২:২৪১)।

– কোরআন অনুযায়ী একজন নারী তার স্বামীর সম্পত্তিরও অংশ পাবে।

– নারী-পুরুষকে সমান-সমান সম্পত্তি দেওয়া হলে পুরুষদের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যার সৃষ্টি হতো। নারীরা বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি যেয়ে স্বামী-সন্তানসহ সেখানেই স্থায়ী হয়ে যায়। ফলে ভাইয়ের পরিবারের এতগুলো সম্পত্তি কীভাবে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাবে – এ নিয়ে সমস্যা দেখা দিত। প্রকৃতপক্ষে স্বামীর অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ না হলে অনেক নারীই তাদের পিতার পরিবার থেকে কোনো সম্পত্তি নেয় না।

এবার দিন শেষে সবকিছু যোগ-বিয়োগ করার পর নারীদের ‘অর্ধাংশ’ কি প্রকৃতপক্ষে ‘অর্ধাংশ’-ই থাকবে নাকি বেশী হওয়ার কথা? বিষয়টাকে ইসলামের আলোকে বিচার-বিশ্লেষণ না করে কোরআনকে হেয় করার উদ্দেশ্যে লোক দেখানো নারীবাদী সেজে অযথায় মায়াকান্না করলেই তো আর হবে না।

অভিযোগ: কোরআনে যেহেতু শুধু পুরুষকে এক সাথে একাধিক স্ত্রী রাখার অধিকার দেওয়া হয়েছে সেহেতু নারী-পুরুষকে সমান অধিকার দেওয়া হয়নি! এমনকি কোরআনে পুরুষের বহুবিবাহ একটি অমানবিক প্রথাও বটে!

জবাব: প্রথমত, পুরুষকে কোনো অধিকার দেওয়া মানে সেই একই অধিকার নারীকেও দিতে হবে, তাহলেই কেবল নারী-পুরুষকে সমান অধিকার দেয়া হবে – মুসলিমরা এই ধরণের অবাস্তব যুক্তিতে বিশ্বাস করে না। কারণ, নারী-পুরুষের মধ্যে মৌলিক কিছু পার্থক্যের কারণে বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকার দেওয়া সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, মুসলিম নারীরা একই সাথে একাধিক স্বামীর জন্য কান্নাকাটি করে না। তারা খুব ভালো করেই অবগত যে, একই সাথে একাধিক স্বামী রাখাটা যৌক্তিক বা সুখের কিছু নয়।

তৃতীয়ত, কোরআনের কোথাও সরাসরি বলা হয়নি যে নারীরা একই সাথে একাধিক স্বামী রাখতে পারবে না। নৈতিক ও যৌক্তিক কিছু কারণের উপর ভিত্তি করে এটি মুসলিমদের একটি অবস্থান। কাজেই কেউ একই সাথে একাধিক স্বামী রাখতে চাইলে তাকে মুসলিম সমাজের বাইরে যেয়ে এই কাজ করতে হবে।

চতুর্থত, পুরুষের বহুবিবাহ প্রথা যদি এতটাই অমানবিক কিছু হতো তাহলে আব্রাহামের একাধিক স্ত্রী থাকে কী করে! সলোমনের এক হাজার স্ত্রী ও উপ-পত্নী থাকে কীভাবে! ডেভিডের একাধিক স্ত্রী ও উপ-পত্নী থাকে কীভাবে! কৃষ্ণের ষোল হাজারেরও বেশী স্ত্রী ও গোপি থাকে কীভাবে! অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এতদিন ধরে বহুবিবাহ প্রথা চালু রেখেছিল কী করে! এখনও কোনো কোনো সমাজে এই প্রথা চালু আছে। এই তো মাত্র কিছুদিন আগে পশ্চিমা বিশ্বে পুরুষের বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে আইন করা হলো। তার মানে কি এই আইন পাশ করার আগ পর্যন্ত পুরুষের বহুবিবাহ প্রথা মানবিক ছিল? অথচ ইসলামে পুরুষের বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে এমনভাবে অপপ্রচার চালানো হয় যেন তারা জীবনে কখনো এই প্রথার নামই শোনেনি!

পঞ্চমত, ইসলামে পুরুষের বহুবিবাহ অবশ্য করণীয় কোনো কর্তব্য নয়। বহুবিবাহের জন্য কেউ ভালো মুসলিমও হবে না। বাস্তবে মুসলিমদের মধ্যে খুব কম পুরুষেরই এক সাথে একাধিক স্ত্রী আছে। তার মানে মুসলিমদের কাছে এটি জনপ্রিয় কোনো প্রথা নয় নিশ্চয়। তাছাড়া কাউকে জোর করে হয়তো ধর্ষণ করা যায় কিন্তু জোর করে বিয়ে করে স্ত্রী হিসেবে তো আর রাখা যায় না। এক্ষেত্রে জোর-জবরদস্তির কোনো স্থান নেই (৪:১৯, ২:২৫৬)। তবে কোনো নারী যদি স্বেচ্ছায় অন্য কারো স্ত্রীর সাথে যৌথভাবে থাকতে চায় এবং সেই পুরুষের পক্ষে যদি একাধিক স্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব হয় সেক্ষেত্রে তো কারো গাত্রদাহ হওয়ার কথা নয়। এক সাথে একাধিক গার্লফ্রেন্ড বা অবৈধ উপ-পত্নী রাখা গেলে একাধিক বৈধ স্ত্রী রাখা যাবে না কেন? বরঞ্চ গার্লফ্রেন্ড ও অবৈধ উপ-পত্নীর ক্ষেত্রে কোনো দায়িত্ব যেমন নিতে হয় না তেমনি আবার বিভিন্ন সমস্যারও সৃষ্টি হতে পারে।

ষষ্ঠত, ইসলামে পুরুষের বহুবিবাহকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। কারণ, কোরআনে মূলত বিধবা নারীদেরকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে বলা হয়েছে (৪:২-৩)। পাশাপাশি তাদের প্রতি ন্যায়বিচারও করতে বলা হয়েছে। তবে এও বলা হয়েছে যে, স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়বিচার করতে না পারলে একজনই যথেষ্ট। অতএব, ইসলামে পুরুষের বহুবিবাহ কোনো সামাজিক সমস্যা তো নয়-ই বরঞ্চ প্রয়োজনে সামাজিক সমস্যার যৌক্তিক ও মানবিক একটি সমাধান হতে পারে।

সপ্তমত, যে পশ্চিমা বিশ্বের অতি সাম্প্রতিক কিছু নিয়ম-নীতিকে ‘আদর্শ’ ধরে নিয়ে ইসলামের সমালোচনা করা হচ্ছে সেই পশ্চিমা বিশ্বেরই হাজার হাজার নারী-পুরুষ প্রতি বছর ইসলাম গ্রহণ করে ইসলাম সম্পর্কে কী বলছেন সেটা জানাটা কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কিছু নমুনা দেখা যেতে পারে:

অভিযোগ: কোরআনে অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের বিয়ে করার কথা লিখা আছে!

জবাব: কোরআনের ৬৫:৪ আয়াতের অংশবিশেষ উদ্ধৃত করে অভিযোগ করা হয় এই বলে যে, কোরআনে অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের বিয়ে করার কথা লিখা আছে। অথচ সেই অংশবিশেষ ‘Those who have no courses’ বলতে বুঝানো হয়েছে যে, শারীরবৃত্তীয় বা অজানা কোনো কারণে নারীদের রজঃস্রাব সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। এখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের বুঝানো হয়নি। তাছাড়া এই আয়াতের কোথাও অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের বিয়ে করার কথা বলা হয়নি। কোরআনে বরঞ্চ প্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের বিয়ে করার ইঙ্গিতই আছে (৪:১৯-২১)। এমনকি কোরআনে বিয়েকে "পবিত্র চুক্তি" বলা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের সাথে "পবিত্র চুক্তি" করা যায় না নিশ্চয়।

অভিযোগ: কোরআনে অমানবিক হিল্লা বিয়ের কথা লিখা আছে!

জবাব: প্রথমত, কোরআনে "হিল্লা বিয়ে" নামে কোনো বিয়ের কথা উল্লেখ নেই। তাছাড়া তথাকথিত হিল্লা বিয়ের নামে বাংলাদেশে যে প্রথা প্রচলিত আছে সেটি একটি কোরআন-পরিপন্থী প্রথা। দ্বিতীয়ত, ইসলামে তালাকপ্রাপ্তা নারীকে তার পছন্দ অনুযায়ী অন্য কাউকে বিয়ে করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে (২:২২৯-২৩২)। তৃতীয়ত, ইসলাম নিয়ে যারা অধ্যয়ন করেছেন তারা খুব ভালো করেই জানেন যে, স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে কিছু ধাপ অতিক্রম করতে হয় (২:২২৬-২৩০)। গোঁড়া সমালোচকদের মনগড়া অপপ্রচারকে ইসলাম সমর্থন করে না। প্রকৃতপক্ষে, ইসলামে তালাককে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো সমস্যা হলে পুনর্মিলনের জন্যও কিছু দিক-নির্দেশনা ও বিভিন্নভাবে তাগাদা দেওয়া হয়েছে (৪:৩৪-৩৫ এবং সূরা তালাক)। এই ধাপগুলো অনুসরণ করার পরও তিন তালাক হয়ে গেলে সেই নারী-পুরুষ একে অপরের জন্য অবৈধ হয়ে যায় (২:২৩০)। বিয়ে কোনো পুতুল খেলা নয় যে, ইচ্ছেমতো তালাক দেওয়া যাবে আবার ইচ্ছেমতো গ্রহণ করা যাবে। দু’দিন পর হয়তো আবারো তালাক দেওয়া হবে। এর পরও তিন-তালাকপ্রাপ্তা কোনো নারী যদি অবৈধ সম্পর্ককে বৈধ করে সেই পুরুষের সাথেই আবার ঘর করতে চায় সেক্ষেত্রে সেই নারীকে অন্য কোনো পুরুষের সাথে স্বাভাবিক বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। দ্বিতীয় স্বামী যদি কোনো কারণে তাকে তালাক দেয় সেক্ষেত্রেই কেবল সেই নারী তার প্রথম স্বামীকে বিয়ে করতে পারবে। এখানে স্মরণ রাখতে হবে যে, কোনো নিরীহ নারীকে কিন্তু জোর করে কারো সাথে বিয়ে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কাজেই বল কিন্তু তিন-তালাকপ্রাপ্তা নারীদের কোর্টেই থাকছে। তারা ইচ্ছে করলেই অন্য কাউকে বিয়ে করে কোরআনের এই শাস্তি এড়াতে পারেন। তবে এখানে অমানবিকতার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বিয়ে আবার অমানবিক হয় কী করে? বড়জোর অবমাননাকর হতে পারে।

অভিযোগ: কোরআনে নারী-নারী ব্যভিচারের ক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত ঘরে আবদ্ধ করে রাখার বিধান আছে অথচ পুরুষ-পুরুষ ব্যভিচারের ক্ষেত্রে কোনো শাস্তির বিধান নেই! এমন বৈষম্যপূর্ণ বিধান থাকার পরেও কোরআনে নারী-পুরুষ সমান হয় কীভাবে!

জবাব: প্রথমত, গোঁড়া সমালোচকরা কখনোই কোরআনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করে না। কোরআনে পুরুষ-পুরুষ ব্যভিচারের ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান আছে। এই বিষয়টি কোরআনের ৪:১৫-১৭ আয়াতে পাওয়া যাবে। দ্বিতীয়ত, নারী-নারী ব্যভিচারের ক্ষেত্রে সরাসরি শাস্তির কথা বলা হয়নি। তাদের ক্ষেত্রে শাস্তি তখনই হবে যখন নিদেনপক্ষে চারজন লোক ব্যভিচারের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে, যেটি বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রায় অসম্ভব। তৃতীয়ত, নারীদের ক্ষেত্রে কোনো রকম শারীরিক শাস্তির বিধান নেই। তাদেরকে আমৃত্যু পর্যন্ত ঘরে আবদ্ধ করে রাখতে বলা হয়েছে। এও বলা হয়েছে যে, “তাদেরকে ঘরে আবদ্ধ করে রাখবে যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের জন্য অন্য কোনো ব্যবস্থা করেন।” অন্যদিকে পুরুষ-পুরুষ ব্যভিচারের ক্ষেত্রে কোনো সাক্ষী ছাড়াই সরাসরি শাস্তির বিধান আছে। সর্বোপরি, তার পরের আয়াতে খুব পরিষ্কার করেই বলা আছে, “অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করেন, যারা ভুলবশত মন্দ কাজ করে ফেলে, তারপর অবিলম্বে তওবা করে; এরূপ লোকের তওবাই আল্লাহ কবুল করেন।” (৪:১৭) অতএব, আল্লাহর কাছে নারী-পুরুষ আসলেই সমান। তবে প্রকৃতিগতভাবে নারী-পুরুষের মধ্যে কিছু পার্থক্যের কারণে পার্থিব দু-একটি ক্ষেত্রে উনিশ-বিশ হতে পারে।

অভিযোগ: কোরআনে যেহেতু ক্রীতদাসীদের সাথে সেক্স করার কথা লিখা আছে সেহেতু কোরআন একটি অমানবিক ধর্মগ্রন্থ!

জবাব: প্রথমত, কোরআনে ক্রীতদাস প্রথা বলে কিছু নেই। ক্রীতদাস প্রথা সম্পূর্ণ ভিন্ন জিনিস। কোরআনে যুদ্ধবন্দীদেরকে রক্ষণাবেক্ষণ বা আশ্রয় দানের জন্য নিজের অধীনে রাখার কথা বলা আছে এবং কেউ চাইলে যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে সেক্স করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের সাথে সেক্স করা যেমন কর্তব্য বা পবিত্র কিছু নয় তেমনি আবার তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও কিছু করা যাবে না (২৪:৩৩)। প্রকৃতপক্ষে, তাদের সাথে কেউ সেক্স করতে চাইলে তাদেরকে বিয়ে করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে (৪:২৫)। তবে যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপারটা সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে বিধায় তাদের সাথে সেক্স করার প্রশ্ন আর আসে না। দ্বিতীয়ত, কোরআনে সেক্স এর কথা শুনলে কারো কারো মুখমন্ডল লজ্জায় ফেকাসে হয়ে যায় কেন! তারা সাধু-সন্ন্যাসী নাকি! নাকি তারা নতুন করে নৈতিকতার উপর ওহী পেয়েছে, যেখানে যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে সেক্সকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে? সেক্স অমানবিক কিছু না হলে যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে সেক্স করা অমানবিক হবে কেন। কোরআনে যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে সেক্স নিয়ে কারো কারো লজ্জার সীমা নেই। এ যেন মায়ের চেয়ে সৎ-মায়ের দরদই বেশী! অথচ কোরআনে দাস-দাসী ও যুদ্ধবন্দীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়ার কথা বিভিন্নভাবে এবং বহুবার বলা হয়েছে। এও বলা হয়েছে যে, এটি একটি অত্যন্ত মহৎ কাজ (৯০:১২-১৩, ২:১৭৭, ৪৭:৪, ৯:৬০, ৫:৮৯, ৪:২৫, ৪:৯২, ২৪:৩৩, ৫৮:৩)।

লক্ষ্যণীয় বিষয়:

– ধর্মীয় প্রভাব ছাড়াও বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম পোশাকের প্রচলন আছে। নারীদেরকে উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের পর্ণগ্র্যাফি ব্যবসাও করা হচ্ছে। অথচ বিশেষ একটি ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে নারীদের পোশাককে পশ্চাৎপদতা ও নির্যাতন-নিপীড়ন এর হাতিয়ার হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যেখানে নির্যাতন-নিপীড়ন বা অধিকার হরণের কিছুই নেই।

– কোরআনে একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ও একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে একজন পুরুষের স্থলে দু’জন নারী সাক্ষীর কথা বলা আছে, যেটি আসলে খুবই বিরল ঘটনা এবং যেখানে নির্যাতন-নিপীড়ন বা অধিকার হরণের কিছুই নেই।

– পরিবারের মঙ্গলের জন্য শুধুমাত্র অসৎ স্ত্রীকে ধাপে ধাপে কিছু থেরাপির মাধ্যমে সঠিক পথে নিয়ে আসার সমাধান দেওয়া হয়েছে, যেখানে সার্বিকভাবে নারীদের নির্যাতন-নিপীড়ন বা অধিকার হরণের কিছুই নেই।

– মাসিক রজঃস্রাবকালে নারীরা অসুস্থতা অনুভব করতেই পারে। আর রজঃস্রাবকালে যেহেতু শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হয় সেহেতু এই অবস্থাকে 'অশুচি' বলা হয়েছে। এখানে নির্যাতন-নিপীড়ন বা অধিকার হরণের কিছুই নেই।

– সন্তান জন্মানোর জন্য স্ত্রীকে উপমা হিসেবে একটি ন্যাচারাল সিস্টেম তথা শষ্যক্ষেত্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যেখানে নির্যাতন-নিপীড়ন বা অধিকার হরণের কিছুই নেই।

– সার্বিকভাবে সবকিছু বিবেচনা করে নারীকে কিছুটা কম সম্পত্তি দেওয়ার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে, যেখানে নির্যাতন-নিপীড়ন বা অধিকার হরণের কিছুই নেই।

– এক সাথে একাধিক স্ত্রী রাখার অধিকার দিয়ে পুরুষকেই নির্যাতন-নিপীড়ন করা হয়েছে। কেননা এক সাথে একাধিক স্ত্রীর ভরণপোষণ করা সহজ ব্যাপার নয়। স্রেফ সেক্স এর জন্য কেউ ইচ্ছে করলে তো উপ-পত্নী রাখতে পারে কিংবা পতিতালয়ে যেতে পারে। ফলে এখানে নির্যাতন-নিপীড়ন বা অধিকার হরণের কিছুই নেই।

– কোরআনের কোথাও অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের বিয়ে করার কথা বলা হয়নি। কোরআনে বরঞ্চ প্রাপ্তবয়স্ক বালিকাদের বিয়ে করার ইঙ্গিতই দেওয়া আছে।

– তথাকথিত হিল্লা বিয়ের ক্ষেত্রে তিন তালাকপ্রাপ্তা নারীদের কোর্টেই বল ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা ইচ্ছে করলেই এই অপমানকে এড়াতে পারেন। এখানে সার্বিকভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন বা অধিকার হরণের কিছুই নেই।

– নারী-নারী ও পুরুষ-পুরুষ ব্যভিচারের ক্ষেত্রে কিছুটা আলাদাভাবে শাস্তির বিধান দেওয়া হয়েছে। এখানে নিরীহ নারীদের উপর নির্যাতন-নিপীড়ন বা তাদের অধিকার হরণের কিছুই নেই।

– কোরআনে দাস-দাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার এবং তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়ার কথা বিভিন্নভাবে এবং বহুবার বলা হয়েছে। যুদ্ধবন্দী নারীদের সাথে কেউ সেক্স করতে চাইলে তাকে বিয়ে করার তাগাদাই দেওয়া হয়েছে। এখানে সার্বিকভাবে নির্যাতন-নিপীড়ন বা অধিকার হরণের কিছুই নেই।

এই একবিংশ শতাব্দীতেও যেখানে কোনো কোনো ধর্ম বা কালচারের প্রভাবে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ কন্যা শিশুকে হত্যা করা হচ্ছে সেখানে কোরআনে এই চরম অমানবিক প্রথাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে (১৬:৫৮-৫৯, ৮১:৮-৯, ১৭:৩১)। এই অধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের যুগেও যেখানে কোনো কোনো দেশে ধর্ম বা কালচারের প্রভাবে যৌতুকের জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার নারীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত-নিপীড়িত থেকে শুরু করে হত্যার শিকার পর্যন্ত হতে হচ্ছে সেখানে কোরআনে উল্টোদিকে নারীকেই বিয়ের সময় দেনমোহর বা উপহার দিতে বলা হয়েছে (৪:৪)।

কোরআনে নারীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো তুলে ধরা হলো তার বেশী কিছু নেই এবং এই অভিযোগগুলোর প্রায় সবই আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সকল সমাজেরই কম-বেশী সাধারণ ফিনমিন্যান। অথচ নারীদের বিষয়ে কোরআনের মূল শিক্ষাকে কৌশলে এড়িয়ে যেয়ে এখানে সেখানে থেকে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু আয়াতের অংশবিশেষ কিংবা শব্দ বেছে নিয়ে সেগুলোর সাথে মুসলিম পরিবারে সংঘঠিত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে যোগ করে মনের মাধুরি মিশিয়ে কোরআনকে 'নারী-বিদ্বেষী' বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

আমি ব্যক্তিগতভাবে নারী-পুরুষের সম-অধিকারে বিশ্বাসী। তবে এক্ষেত্রে মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন হচ্ছে নারী-পুরুষের সম-অধিকার বলতে আসলে কী বুঝানো হয়? কে এই সম-অধিকার নির্ধারণ করবে? সবাই সেটা মেনে নেবে কেন? অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবেই এ বিষয়ে নানা মনির নানা মত থাকবে। এমনকি স্থান-কাল-পাত্র ভেদেও বিভিন্ন রকম মতামত থাকতে পারে। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে কোনো ভাবেই ঐক্যমতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, কোরআনে নারী-পুরুষকে সার্বিকভাবে সমান মর্যাদা ও অধিকার দেওয়া হয়েছে। কাজেই কোরআনের কোনো বিষয়ে সমালোচনা করতে চাইলে অবশ্যই একটি গ্রন্থ হাতে করে নিয়ে আসতে হবে। কারণ, যৌক্তিক বা বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে রেফারেন্স ছাড়া ব্যক্তিগত মতামতের কোনো মূল্য নেই।